
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: পুরুষশাসিত সমাজে নারীর স্বাবলম্বী হওয়া মানে কঠিন সংগ্রাম। দেশে এনজিও-ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে পা বাড়াচ্ছে। তবে এই পথ সহজ নয়।
দারিদ্র্যপ্রবণ গ্রামীণ নারীরা ঋণ নিয়ে শাকসবজি চাষ, গরু-ছাগল পালন, হাঁস-মুরগি, পুকুরে মাছচাষ বা ছোট ব্যবসা শুরু করছে। কিন্তু ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে তাঁরা চাপ, সামাজিক কলঙ্ক ও কখনো শারীরিক হেনস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ ও সুদের বোঝা বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্রঋণ গরিবকে আরও গরিব করে।
তবুও কিছু নারী উদ্যোক্তা সফলতার নজির তৈরি করছেন। লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীর গ্রামীণ নারীরা দীর্ঘদিন ধরে শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে নিজেদের স্বনির্ভর করছেন। অনলাইনে উদ্যোক্তা হওয়া নাজিয়া বিনতে আমিন ‘মেকওভার বাই নাজিয়া আমিন’ পেজের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যস্ততা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি সফল।
‘ব্যাক টু চাইল্ডহুড’ পেজের নুসরাত জাহান মিম বলেন, “একজন নারী প্রতিদিন বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পরিবারের সমর্থন থাকলে সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।” গৃহিণী আফরোজা চায়না এবং শিক্ষার্থী মাঈশা তাবাসসুম ঐশীর মতো নারীরাও নিজ উদ্যোগে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর স্বাবলম্বিতা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নই নয়, দেশের অর্থনীতিকেও এগিয়ে নেয়। তবে সমাজে নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়া না হলে তাদের সম্ভাবনা হারিয়ে যায়।
