চাঁদপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব  প্রতিবেদক : সারা দেশের মতো চাঁদপুর জেলাতেও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অনুপস্থিত ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে পরীক্ষা নেওয়াই উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৮২৩ জন এবং ছাত্রী ৮ হাজার ৮২০ জন। তবে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৮০৮ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৮১৬ জন। সে হিসেবে উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। তবে অনুপস্থিতির সংখ্যাও ছাত্রীর মধ্যেই বেশি।

জেলার আটটি উপজেলার ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষা নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা যদি বছরের শুরুতে, বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য তা বেশি সুবিধাজনক হতো। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকায় একসঙ্গে নতুন শ্রেণির পড়া ও বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালে তিনি চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, পরীক্ষা যদি আগে নেওয়া হতো, তাহলে উপস্থিতি আরও বেশি হতো। তাদের মতে, দেরিতে পরীক্ষা নেওয়ার কারণেই অংশগ্রহণ কমেছে।

দীর্ঘদিন পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও, সময়সূচি নিয়ে তারা নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন।