হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প রায়পুরে নেই তেমন কেনাবেচা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

 

মো.ওমর ফারুক, জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নে একসময় জমজমাট ছিল কামারদের দোকান। দা, বটি, কুড়াল, ছুরিসহ কৃষিজ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরির শব্দে মুখর থাকতো পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না। দোকানে নেই তেমন কেনাবেচা, হাতুড়ির শব্দও কমে গেছে অনেকটাই। দিন দিন কমছে ক্রেতা—ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প।

স্থানীয় কামাররা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে বোরো-মৌসুম পর্যন্ত কৃষকদের ভিড়ে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকতো না। দা, বটি, কুড়াল, কোদাল, ছুরি—এসবের বিক্রি ছিল দৈনিক ভিত্তিতে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কম দামে কারখানায় তৈরি রেডিমেড সরঞ্জাম আসায় স্থানীয়ভাবে তৈরি লোহার সামগ্রীর চাহিদা কমে গেছে অনেক।

এক কামার কর্মকার বলেন, “আগে দিনে দুই-তিন হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হত। এখন কখনো ২০০ টাকাও হয় না। লোহা, কয়লা, শ্রম—সবকিছুর দাম বাড়লেও ক্রেতা নেই। এ অবস্থায় দোকান চালানো কষ্ট হয়ে গেছে।”

কৃষিজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মেশিনের ব্যবহার বৃদ্ধি, বাজারে রেডিমেড লোহার পণ্যের সরবরাহ এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়—এই তিন কারণেই কামারশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

গ্রামের প্রবীণ মানুষদের ভাষায়, কামারশিল্প শুধু পেশা নয়—একটি ঐতিহ্য। প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক পরিবার। কিন্তু বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম এ পেশায় আসতে আগ্রহী নয়। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই লোকজ শিল্প।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যদি কাঁচামালের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা যায়, তাহলে পুনরায় এ শিল্প ফিরে পেতে পারে তার পুরোনো গৌরব।