হাঁস পালনে সফল সাতক্ষীরার ইসলাম আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

স্বপ্ন থেকে সাফল্য: তিন লাখ টাকায় শুরু, এখন মূলধন ৩৫ লাখ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ● সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাসেমপুর গ্রামের ইসলাম আলী এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘হাঁস ইসলাম’ নামে পরিচিত। তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন ৩০০ হাঁস নিয়ে ক্ষুদ্র একটি খামার। চার বছরের ব্যবধানে তাঁর খামারে এখন দেড় হাজারের বেশি বেলজিয়াম জাতের হাঁস, আর মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

ইসলাম আলী বলেন, ২০০০ সালে কিশোরগঞ্জ থেকে ৩০০টি ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের হাঁস এনে খামার শুরু করেন তিনি। ২০১৯ সালে বেলজিয়াম জাতের হাঁস নিয়ে আসার পর ব্যবসায় নতুন গতি আসে। বর্তমানে তাঁর খামারে ৩০০টি বড় হাঁস প্রতিদিন প্রায় ২৯৬টি ডিম দিচ্ছে। প্রতি ডিমের দাম ২০ টাকা করে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার টাকা আয় হচ্ছে। খরচ বাদে প্রতিটি চালান থেকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হয়।

ইসলাম আলীর ভাষায়,

“হাঁসের ডিম, বাচ্চা আর মাংস—সবই বিক্রি করি। বছরে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এখন প্রতি সপ্তাহে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাচ্চা উৎপাদন হয়। বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকার বিক্রি হবে বলে আশা করছি।”

তিনি জানান, ২৪ বছর ধরে ধৈর্য ও শ্রমের সঙ্গে হাঁসের খামার চালাচ্ছেন। “ব্যয় বাদে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলছে, হাঁস পালন করেই আজ আমি স্বাবলম্বী,” বলেন ইসলাম আলী।

খামারের কর্মী রহিমা খাতুন বলেন, “প্রতিদিন সকালে হাঁসগুলোকে ফিড ও পানি দেওয়া হয়। পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয় সকাল ৭টার দিকে। সারাদিন সেখানেই থাকে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “হাঁসগুলো দেখতে সুন্দর, অনেকে এখান থেকে হাঁস কিনে নিয়ে যায়। অনেকেই আসে শুধু দেখতে।”

তালতলা গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, “হাঁসের মাংস খুবই সুস্বাদু। মাত্র চার মাসেই ডিম দিতে শুরু করে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ কিনতে আসে।”

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন,

“বেলজিয়াম হাঁস দ্রুত বর্ধনশীল ও মাংস উৎপাদনের জন্য উপযোগী। জেলার শতাধিক হাঁসখামারের মধ্যে ৩০–৩৫টি বেলজিয়াম জাতের। স্বল্প পুঁজিতে এ খামার করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিয়মিত ভ্যাকসিন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।”