
নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। খরা, সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এ সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় রবিশস্যের জন্য পরিচিত এই জনপদ এখন মিঠাপানির অভাবে হাহাকার করছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে অনেক গভীর নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না।
এ ছাড়া সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকে পড়ায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে এবং পানির উৎসগুলোও লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে পানযোগ্য পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জানা গেছে, সুবর্ণচরে কৃষিকাজের জন্য সরকারি অনুমোদনে ২৪৫টি সেচপাম্প রয়েছে। তবে এর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই তিন হাজারের বেশি সেচপাম্প বসিয়েছেন চাষিরা। এসব পাম্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক এলাকায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। বাধ্য হয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী ও শিশুরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বিকল্প উৎস তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি—দুই ক্ষেত্রেই মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
