
সোহেল রানা বাবু : সুন্দরবনে টহলরত দুই বনরক্ষীকে কুপিয়ে আহত করে আটক এক হরিণ শিকারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের কালিয়ার খাল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আহত বনকর্মীরা হলেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবের এবং নৌকা চালক অপূর্ব কুমার সাহা। তাঁদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবেরের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের চরখালী বনাঞ্চলের শুয়োরগুদি এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিলেন। এ সময় বনের মধ্যে কয়েকজন হরিণ শিকারীকে দেখতে পান তাঁরা।
বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা একটি ট্রলারে করে দ্রুত লোকালয়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা তাদের ধাওয়া করে কালিয়ার খাল এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুস রাজা (৩০) নামে এক শিকারীকে আটক করা হয়।
আটক শিকারীকে নিয়ে ফেরার সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা শিকারীদের অন্য সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। এতে মো. আল জাবের ও অপূর্ব কুমার সাহা গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় আটক শিকারী কুদ্দুস রাজাকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর রাতেই আহত দুই বনকর্মীকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
