
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় বেসরকারি সংস্থা ‘বরসা’ (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রুরাল অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ কয়েকশ গ্রাহক সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থাটি উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করে। বর্তমানে গ্রাহকদের পাওনা অর্থ প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
২০০৩ সালে সাতক্ষীরায় কার্যক্রম শুরু করা বরসার সাতটি শাখা রয়েছে দেবহাটা, আশাশুনি, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায়। সংস্থাটির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ’ হওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমানত সংগ্রহ করতেন। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আশাশুনির পম্পা রায় বলেন, “মেয়ের বিয়ের জন্য চার লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম। পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে বলেছিল। কিন্তু বছর পার হলেও টাকা পাইনি।”
কালীগঞ্জের ভারতি রানী জানান, জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো টাকা ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বরসার নিয়ন্ত্রণাধীন সিবি হাসপাতাল এবং চায়না-বাংলা শপিং কমপ্লেক্স বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ গ্রাহকদের পরিশোধে ব্যবহার করা হয়নি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সংস্থার মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে শতাধিক গ্রাহক সাতক্ষীরা শহরের তালতলা এলাকায় সেনা ক্যাম্পে যান। সেখান থেকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পলাশপোল এলাকায় বরসার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে সংস্থার সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থ উদ্ধার ও গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
