শ্যামনগর ‌আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম পর্যটকের হৃদয় টানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম : পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্যখ্যাত নয়নাভিরাম এ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি খ্যাত সুন্দরবনের পাদদেশে গড়ে উঠেছে আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম নামের মিনি পার্ক। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমের সর্বশেষ জেলা সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারের সন্নিকটে মালঞ্চ নদীর চরে গড়ে উঠেছে আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাবলিক ইন ইনোভেশান সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদের নির্দেশনা মোতাবেক সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সুন্দরবনের কোলঘেঁষে নির্মিত হয়েছে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। পশ্চিম সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারে মুন্সিগঞ্জে গড়ে উঠা আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম মিনি পার্ক তৈরি করা হয়েছে মূলত সুন্দরবন ভ্রমণ পিপাসুদের কথা চিন্তা করেই। কেননা সুন্দরবন দর্শনের জন্য প্রতিবছর দেশী ও বিদেশী প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটে।

২০১৮ সালে
তৎকালীন ‌খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ জীবনান্দ দাশের আকাশলীনা কবিতা অবলম্বনে মিনি পর্যটন কেন্দ্রটির নামকরণ করেছেন আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম। উপকূলীয় শ্যামনগরে ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের কাজ তৎকালীন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ এস. এম. জগলুল হায়দার এর সার্বিক সহযোগিতায় ও বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শে শ্যামনগরের তৎকালীন ‌ইউএনও আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম মহসীন উল মুলক, তৎকালীন ‌উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা ও কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট জনের একান্ত প্রচেষ্টায় উন্নয়ন এটি চালু করা হয়।বর্তমান টাকা যখন অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দরবন ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীদের জন্য যাবতীয় আধুনিক সুযোগ সুবিধা বজায় রেখে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১৭ একর জমি নিয়ে ইকো ট্যুরিজম সেন্টারটির যাত্রা শুরু হয়। তবে ভবিষ্যতে আয়তন বৃদ্ধির পাশাপাশি আরো সুদুর প্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবনের পাশে মুন্সিগঞ্জে পর্যটকদের থাকা খাওয়া, ঘোরা ফেরার সুবিধার্থে জোয়ার, সুশীলন, বর্ষা ও ক্যারাম মুরা ইকো পার্ক গড়ে উঠলেও সরকারি উদ্যোগে আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে সুন্দরবন ভ্রমণপিপাসু দেশী বিদেশী পর্যকটদের কথা চিন্তা করেই। পশ্চিম সুন্দরবনকে লোকালয় থেকে বিভক্ত করা মালঞ্চ নদীর চরে গড়ে উঠা সুন্দর মনোরম পরিবেশে আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত আধুনিকতার ছোয়ায় ভরপুর এ ইকো ট্যুরিজম সেন্টার।

সামগ্রিক উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ট্যুরিজম সেন্টারে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ফি জন প্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা। খাওয়ার সুবিধাসহ রয়েছে গাড়ি পার্কিং সুবিধা। সারি সারি সুবিশাল কেওড়া গাছের মধ্য দিয়ে আঁকা বাঁকা মনোরম দৃশ্যধারী সরু রাস্তা, মাঝে মাঝে বসার ঘর যেন সতিকার এক প্রাকৃতিক স্বপ্নপুরি। যেখানে দেখা মিলবে নানা প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, পাখ-পাখালী ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এছাড়া দেখা যাবে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জীবন্ত চিত্র। বাওয়ালী নিয়ে যাচ্ছে জ্বালানী, দুনুরী ধরছে বরশি দিয়ে মাছ, মৌয়ালী সংগ্রহ করছে মধু, মাছ ও কাঁকড়া ধরছে জেলে। ভাগ্য সহায়ক হলে দেখা মিলবে কুমির, হরিণ, বানর, সাপ, শুকোর ও প্রিয় বড় মামার (রয়েল বেঙ্গল টাইগার) সাথে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ‌ ও পবিত্র ঈদুল ‌আজহার দিনেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাজারো দর্শনার্থীর ভীড়ে মুখরিত আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। এ মিনি পার্কে গেলে মনটা ভেসে যায় সুর ও ছন্দে “শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে মালঞ্চ নদীর তীরে, স্ব-মহিমায় উঠল সেথায় আকাশলীনা গড়ে। নজর কাড়ে হৃদয় নড়ে গেলে আকাশলীনায়, বাঘ, হরিণ আর পাখ-পাখালি মিলবে দেখা সেথায়”।

এই প্রসঙ্গে বর্তমান ‌শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজজাহান কনক এই প্রতিবেদককে বলেন,“বিগত ‌খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কিছু টিআর বরাদ্দ করে এবং শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের কিছু বরাদ্দ একত্রিত করে ‘এ টু আই’ প্রকল্পের ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস এর আওতায় কমিউনিটি বেজড কালচারাল ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের মাধ্যমে আকাশলীনা ইকোটুরিজম সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়। যেখানে উপকুলীয় এলাকার পেশাজীবিদের জীবনজীবিকার মিউজিয়াম, ফিস মিউজিয়াম, ওয়াচ টাওয়ার ও থাকার ব্যবস্থাসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে।”
প্রতিদিন বহু দুর দুরান্ত থেকে সুন্দরবন ভ্রমণপিপাসু অনেক দর্শনার্থী পাড়ি জমায় আকাশলীনায় প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থেকে হৃদয়কে খানিকটা হালকা করার জন্য। ডুবু ডুবু সুর্যের রক্তিম সন্ধ্যায় সুন্দরবনের কোলে বসে নদীর কুলকুল ধনীতে হৃদয় নেচে উঠবে যে কারোরই। নির্জনে মনের অজান্তে সহসা মনটা চলে যাবে কবি দুনিয়ায়। গুনগুনিয়ে আবেগী মন হয়তো বা গেয়ে উঠবে ধন ধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এ বসুন্ধরা। অবকাঠামো উন্নয়নসহ আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টারটির সামগ্রিক কাজ সম্পন্ন হলে সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা বাড়বে। ঘটবে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের প্রসার।আরও দেখুন
সেরা ট্যুর প্যাকেজ
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিধৌত সুন্দরবন যেন চির সুন্দর। তার অনন্ত চিরযৌবনা সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ কে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ও তার এ সৌন্দর্যে বিমোহিত।প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে কার না মন চায়। সৌন্দর্যের এই লীলাভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে দিনে দিনে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সংখ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেল এমন তথ্য। তবু এ সংখ্যা যেন পর্যাপ্ত নয়। সুন্দরবনকেন্দ্রিক যে পরিমাণ মানুষ আসার কথা হিসাব অনুযায়ী আদৌ মিলছে না। অনিন্দ সুন্দর প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের গর্বের প্রতিক প্রিয় সুন্দর বন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ, লোনাপানির বন সুন্দর বন। এ বনের বিশেষ পরিচিতি ও চেনাতে এবং জানাতে দেশী বিদেশীদের কে, সময়ের আবর্তে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের চিন্তার আকাশে জন্ম নেয় এক মহতি উদ্যোগ। যার ফল আজকের এই আকাশ নীলা ইকোট্যুরিজম। জন্ম লগ্ন থেকে যেন মানুষকে আকৃষ্ট করছে। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া মিললেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, থাকার সুষম ব্যবস্থা না থাকায় দিনে দিনে যেন তার কর্ম পরিধি কমছে এই কাব্যিক লীলাভূমিতে জন্ম নেওয়া আকাশ লীনা ইকোট্যুরিজমের। সৃষ্টি লগ্নে তার সৃষ্টির উপর যে কর্মযজ্ঞ ছিল তা দিনে দিনে যেন ঝিমিয়ে পড়ছে। তার সৃষ্টি শৈলীর যে পরিকল্পনা ছিল আজ যেন তা মন্থর। আন্তরিকতার অভাব, ভবন অবকাঠামো সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজগুলো অগ্রগতিহীনতার কারণে সুন্দরবনের যে জৌলুস তা ঠিকঠাক মতো মানুষ উপভোগ করতে পরছে না। ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ জলোচ্ছাসের হাত থেকে রক্ষা করে। মায়ের মত পরম মমতায় সুন্দরবন উপকূলবর্তী অঞ্চলকে আগলে রাখা আমাদের এ প্রিয় সুন্দর বন সম্পর্কে সবাই চিনবে জানবে এমন প্রত্যাশা সুধী মহলের। শুধু চিনবে বা জানবে কেন,সুন্দর বনের বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ছোট বড় কয়েক প্রজাতির সবুজ গাছের অপরুপ মনোরম দৃশ্য,বনের মধ্য বানরের সারাক্ষন লুকচুরি,বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলরব,নদীর কুল কুল ধ্বনি,নদীতে পাল তোলা নৌকার মনোহরী দৃশ্য,প্রকৃতির ফুরফুরে বাতাসে শুধু দেহ মন জুড়ায় না মনের ক্ষুধা – তৃষ্নার খোরাক ও বটে।এ ট্যুরিজম স্পটের পরিপূর্ণ গঠন শিল্প আর সুন্দর বনের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বানর,হরিণ,জীব জন্তুর,ও কৃত্রিম কারু ক্য্যা সহ গ্রামের সাধারন দৃশ্যের সমন্বয়ে সময়ের আবর্তে পরিনত হবে অপরুপ সৌন্দর্য্যের এক মিলন মেলায় এমন টা মনে করে স্থানীয় জনগন।বর্তমানে নির্মানাধীন এ পার্কের গেস্ট হাউস,পার্কিং স্পট,ওয়াচ টাওয়ার সহ বিভিন্ন কাজ চলছে।ওয়াচ টাওয়ারে বসে বনের বিচরনকৃত বন্য প্রানী দেখা যাবে যা অত্যন্ত মজার ব্যাপার বলে অনেকে মনে করেন।ইতোমধ্যে এ পার্কে মোঃ আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়ামে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির নদী ও সামুদ্রিক মাছ।এ ছাড়া গাছে গাছে ঝুলছে কৃত্রিম বানর,ঘাস আর গাছের নিচে বাঘ, পাখি ও দলে দলে চিত্রালী মায়াবী হরিন। এত সুন্দর নান্দনিক সৌন্দর্য নিয়ে যায় কল্পনার গহীন রাজ্যে। আমাদের গর্বের প্রতিক আকাশনীলা ইকোট্যুরিজমে বিটিভির সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষা ও তথ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি এ পার্কে হওয়ায় এক অন্যরকম মাত্রা সৃষ্টি হয়েছিল। এর পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় আনুপাতিক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গর্বের প্রতীক প্রিয় সুন্দর বন পরিচিতিতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আকাশ নীলা। বেড়েছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। তবুও যেন আশানুরূপ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাদৃত সৌন্দর্যের এই ভূস্বর্গে দর্শনার্থীদের পদচরণায় মুখরিত হবে। আনন্দ উচ্ছ্বাসের উদ্বেলিত হবে প্রতিটি দিনের প্রতিটি ক্ষণ। এই কাঙ্ক্ষিত ফল মিললেই সড়কপথে সুন্দরবন ভ্রমণে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চির জাগ্রত সুন্দরবনের যে আসল রূপ বৈচিত্র তা মানব মনে প্রস্ফুটিত হবে। এমন প্রত্যাশা-আশা, আকাঙ্ক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ স্থানীয় সুধী মহলের।