
নাজমুল হোসেন :
মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দেশে আগে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়। দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না। আর বিনিয়োগ ও উৎপাদন না হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।
সোমবার বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সেখান থেকে অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় চলে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ দমন করে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে, তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অতীতে চাঁদাবাজির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন। একই কারণে দাগনভূঞায় তার প্রতিষ্ঠিত দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মাছুম বিল্লাহ এবং ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ হাসান বক্তব্য দেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে পরিবেশমন্ত্রী দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আতাতুর্ক সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক ও গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, উপজেলা জামায়াতের আমির গাজী সালেহ উদ্দিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার এবং সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
