লক্ষ্মীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন যাত্রা: বাসের অবস্থা ভয়াবহ, যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে রায়পুর ও রামগতি সড়ক পর্যন্ত প্রতিদিনই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। বাসের খারাপ অবস্থা, অদক্ষ চালক এবং সড়কের বেহাল দশা—সব মিলিয়ে যাত্রীরা যেনো জীবন বাজি রেখেই চলাচল করছেন। গত ২৭ আগস্ট মান্দারির কাছাকাছি এলাকায় আনন্দ পরিবহনের একটি বাসে গ্যাস সিলিন্ডার খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা যাত্রীদের জন্য ছিল একটি ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা।

যাত্রীরা জানান, চলন্ত বাসের গ্যাস সিলিন্ডার খুলে সড়কে পড়ে যাওয়ার পর চিৎকার করে চালক ব্রেক চাপলে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এমন ঘটনা যেনো তাদের জীবনের প্রতিটি যাত্রাকেই পরিণত করছে একটি লটারি, যেখানে ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই নিশ্চিত নয়।

বাসগুলোতে হেলে দুলে চলা, খসে পড়ার মতো টায়ার, মরিচা ধরে যাওয়া বডি, ভাঙা সিট, এবং অদক্ষ চালকের স্টিয়ারিং—এসব মিলিয়ে প্রতিটি যাত্রা যেনো এক ধরনের জীবনের কিস্‌মত। রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ, প্রতিটি গর্ত এবং ফাটল যেনো বাসগুলোকে ঢেলে দিচ্ছে। চালকরা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং হঠাৎ ব্রেক করার মাধ্যমে যাত্রীদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।

এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিশচা) জেলা সভাপতি  বলেন, “ফিটনেসবিহীন বাস, ভাঙা সড়ক এবং অদক্ষ চালক—এই তিনটি বিপদ নিয়ে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরবাসী জীবন বাজি রেখে চলাচল করছে। যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বড় দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। নিয়মিত তদারকি, সড়ক সংস্কার এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।”

এদিকে, বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, “ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত চেকিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।”

লক্ষ্মীপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “যেসব গাড়িতে সমস্যা রয়েছে, তাদেরকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে গাড়ি ঠিক করাতে। তবে যাত্রী চাপ এত বেশি যে, পুরনো এবং জীর্ণ গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছি। নতুন গাড়ি আনার খরচ ও সময়ের চাপ রয়েছে, আর প্রতিদিন যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে গাড়ি চালানো জরুরি। প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির অভাব আমাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চালাতে বাধ্য করছে।”

এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের জীবনের প্রতিটি যাত্রা এখন এক ধরনের ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল। এক যাত্রী বলেন, “সড়ক শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের বাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এখন সেটি ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। আজকের যাত্রা যেনো জীবনের লটারি, যেখানে জীবনের টিকিট হাতে নেওয়া মানে নিশ্চিত না হওয়া কিছু।”

বস্তুত, সড়ক সংস্কার, বাসের ফিটনেস এবং চালকদের দক্ষতা—এই তিনটি বিষয় যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন ও মালিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি এই সমস্যা সমাধান না হয়, তবে বড় দুর্ঘটনা বা অকাল মৃত্যু আর অপেক্ষা করবে না।