
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপহরণ নাকি পরিকল্পিত আত্মগোপন—তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নেতাদের ভাষ্য, বিজয় কুরী নামে ওই ব্যবসায়ীকে সোমবার রাতে জেলার মান্দারী বাজারের মালাকা বাড়ি এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে মান্দারী বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিজয় কুরীকে উদ্ধারের দাবি জানান জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার। একই দাবিতে বাজারের সব স্বর্ণের দোকান বন্ধ রাখা হয়।
বিজয় কুরী মান্দারী বাজার বাজুস শাখার সভাপতি ও ‘সীমা শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহপ্রচার সম্পাদক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে বিজয় কুরী ও উজ্জ্বল চন্দ্র দাসের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে নেওয়া হলে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে ঈদের পর বসার সিদ্ধান্ত থাকলেও এর মধ্যেই বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
বিজয়ের ছেলে পিকলু কুরী অভিযোগ করেন, ‘আমাদের জমিতে প্রতিপক্ষ লোকজন এনে ঘর নির্মাণ করে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের মারধর করে। একপর্যায়ে আমার বাবাকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ উজ্জ্বল চন্দ্র দাসের স্ত্রী প্রতিমা রাণী দাস। তিনি বলেন, ‘জমিটি আমরা বৈধভাবে কিনেছি। সোমবার রাতে বিজয় ও তাঁর লোকজন আমাদের ঘর ভেঙে দেয় এবং আমাদের মারধর করে। বিজয় নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজাচ্ছেন।’
ঘটনার সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মানিক সাহা। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাজুস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর্মকার ও মান্দারী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন কৃষ্ণকুরীসহ স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, ‘স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিজয় কুরীকে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা দ্রুত তাঁর উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।’
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
