
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে চিরাচরিত বিটুমিন বা পিচঢালা রাস্তার ধারণা বদলে দিচ্ছে পরিবেশবান্ধব ‘ইন্টারলকিং কনক্রিট ব্লক’। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই প্রকৌশল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থার দৃশ্যপট।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, টেকসই উন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ব্লক প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় ও নিচু এলাকার জন্য এই প্রযুক্তি বিটুমিনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও টেকসই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বশিকপুর ও দত্তপাড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দৃষ্টিনন্দন ব্লক রোড গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা চিত্রে এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।
বশিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমেদ উল্লাহ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যেত। এখন ব্লকের রাস্তা হওয়ায় সেই সমস্যা নেই। গ্রাম এখন শহরের মতো পরিপাটি লাগে।”
প্রকৌশলীদের মতে, পরিবেশগত দিক থেকেও ইন্টারলকিং ব্লক প্রযুক্তি অধিক উপযোগী। এটি তাপ শোষণ কম করে এবং বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে প্রবেশে সহায়তা করে, যা জলাবদ্ধতা কমাতে ভূমিকা রাখে।
নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদাররা জানান, এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো—রাস্তার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলতে হয় না; শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্লক বদলালেই মেরামত সম্পন্ন করা যায়, ফলে ব্যয়ও কমে আসে।
স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষরাও এ পরিবর্তনে সন্তুষ্ট। দত্তপাড়া এলাকার ভ্যানচালক করিম মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে অনেক আরাম, ঝাঁকুনি কম হয়। আগে ভাবিনি গ্রামে এমন আধুনিক রাস্তা হবে।”
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রনজিত চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ব্লকের রাস্তা টেকসই ও আকর্ষণীয়। জেলার অন্যান্য গ্রামীণ সড়কেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের দাবি জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হওয়ায় ইন্টারলকিং ব্লক রোড এখন সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় ভবিষ্যতে এ প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইন্টারলকিং কনক্রিট ব্লক প্রযুক্তি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কার্যকর মডেল হিসেবে অনুসরণ করা যেতে পারে।
