রায়পুরে পিএফএস কংগ্রেস: পুষ্টি, উদ্যোক্তা ও আধুনিক কৃষিতে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ‘পিএফএস (পার্টনার ফিল্ড স্কুল) কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার টাকুয়ারচর কারীবাড়ি হুজুর মসজিদ মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কংগ্রেসে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পিএফএস সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

কংগ্রেসে বক্তারা বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি। পিএফএস কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ ও হলুদ ট্র্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও ছাদবাগানে লাভজনকভাবে আদা, মরিচ ও বেগুন চাষের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, “খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে কৃষকরা উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পিএফএস গ্রুপ তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে সফল কয়েকজন কৃষক ও কৃষাণীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “রায়পুরে পিএফএস কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা সহজেই স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন।”

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।