সাতক্ষীরার চার আসনেই বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম | সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। চারটি সংসদীয় আসনেই চূড়ান্ত প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ও শহরজুড়ে ফেস্টুন, দেয়াল লিখন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চোখে পড়ছে। নতুন আসনবিন্যাসের পর সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪ আসনে ভোটের সমীকরণ নতুন করে হিসাব–নিকাশে বসতে বাধ্য করছে দলগুলোকে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জেলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে সাতক্ষীরা-২ ও ৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের ঘিরে দলীয় কোন্দল থাকায় জামায়াত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া)

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তৎপরতা না থাকায় ভোটের মাঠে মূল লড়াই এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন,
‘মিথ্যা মামলায় আমাকে দীর্ঘদিন দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি।’

সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা আংশিক)

১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রউফ এবং জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির ভেতরে একাধিক পক্ষের অসন্তোষ থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশে দল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও মূল লড়াই বিএনপি–জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালীগঞ্জ)

এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। মনোনয়নবঞ্চিত ডা. শহিদুল আলমকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখানে সবচেয়ে প্রকট। এতে জামায়াত প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাসে কালীগঞ্জের ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ভোটের চূড়ান্ত চিত্র এখনো অনিশ্চিত।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)

সীমানা পরিবর্তনের ফলে শ্যামনগরকেন্দ্রিক এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান মনির। বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কার্যত মাঠের বাইরে। ফলে এ আসনেও বিএনপি–জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই প্রবল।শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন,
‘প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। আমরা জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’