
মো. ওমর ফারুক , জেলাপ্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় টানা ১০ দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা। চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে রোপা আমনের বীজতলা, শাকসবজির খেত, পানের বরজ ও মাছের ঘের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সোনাপুর, চরআবাবিল, চরবংশী, চরপাতা, চরমোহনা ও বামনীসহ অন্তত ১০টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে আছে। ইতোমধ্যেই অনেক জায়গায় ধানের চারা ও পানগাছ পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে।স্থানীয় কৃষক শাহ আলম, রুহুল আমিন, মনির আহমদ, পেয়ার আহমদ, নুরনবী ও নুর হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে রোপা আমনের খেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো মৌসুমের ফসল হারানোর শঙ্কা করছেন তারা।
দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন বলেন, “সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরের অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। পানি যাওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।এ বিষয়ে সিআইপি প্রকল্পের সম্প্রসারণ ওভারসিয়ার জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজীমারা সুইচগেট দিয়ে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চরবগাদি পাম্প হাউজের ১২০০ কিউসেক ক্ষমতার ছয়টি পাম্প দিয়ে টানা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, রায়পুরে এবার ৪২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। কিন্তু অতি বৃষ্টির কারণে গভীর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা উৎপাদনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে মৌসুমী ফলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে।এদিকে ফসলের পাশাপাশি মাছের ঘের ও পানের বরজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি কৃষক ও খামার পরিবার। এখন তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।
কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সরকারি সহায়তা দাবি করছেন, যেন ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যায়।
