
নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক দম্পতির অন্তরঙ্গ ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের হুমকিতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ওসমান গণি পাটওয়ারী। তিনি রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের পশ্চিম সাগরদি গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার মো. শুভ (২০), তারেক (২১), মাহি (২০), রায়হান (২২), অনিক (২০), আকরাম (২৪) ও আরমান (২০)। স্থানীয়দের কাছে তারা কিশোরগ্যাং সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ওসমান গণি বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে এলাকায় একটি ‘টি স্টোর’ চালু করেন তিনি। এ সময় অভিযুক্তরা তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও গোপনে ধারণ করে। পরে সেই ভিডিওকে পুঁজি করে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, “টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৬ এপ্রিল রাতে তারা আমার দোকানে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা লুট করে নেয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।”
ওসমান গণি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি গত ১২ এপ্রিল রায়পুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মামলা করার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার অভিযুক্তদের ভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, “চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা আমাদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। আমাদের মারধরও করেছে। এখন আবার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার অভাবে তারা বর্তমানে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় কিশোরগ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
