
নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, দক্ষতার হাতিয়ার তুলে দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অপমান করতে চান না তারা; বরং প্রতিটি হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র ভোটের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করে, তাহলে আর বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। অতীতের কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভক্তির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানান তিনি। “আমরা পিছনে নয়, সামনে এগোতে চাই,” বলেন তিনি।
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে যুবকেরা গর্ব করে বলতে পারবে—‘আমিই বাংলাদেশ’। দেশের নেতৃত্ব ভবিষ্যতে যুবকদের হাতেই তুলে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই আজ গণভোট ও নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা ওই আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিছু মহল আন্দোলনের ভূমিকা অস্বীকার করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটি লজ্জাজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে যে রাজনীতি দেশ দেখেছে, তা ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও অধিকার হরণের জন্ম দিয়েছে। চাঁদাবাজি, ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচারের রাজনীতি আর ফিরে আসুক—এটা দেশবাসী চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আপনারা যদি পরিবর্তন চান, তাহলে পরিবর্তনের পক্ষেই হ্যাঁ বলতে হবে। গণভোটে প্রথম সিলটি হ্যাঁ ভোটেই দিতে হবে।”
জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম।
