মেহেরপুরে কমলা চাষে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

মেহেরপুর প্রতিনিধি : ধান, গম ও সবজি নির্ভর কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরে নীরবে জায়গা করে নিচ্ছে নতুন একটি ফসল—কমলা। সীমিত পরিসরে শুরু হলেও পরীক্ষামূলক কমলা চাষে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তবে সরকারি পরিকল্পনা ও গবেষণার অভাবে এই সম্ভাবনা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মুজিবনগর, গাংনী ও মেহেরপুর সদর উপজেলার কয়েকজন প্রগতিশীল কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে কমলার বাগান গড়ে তুলেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সীমিত পরামর্শে এসব বাগান স্থাপন করা হয়েছে বলে কৃষকদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, এক বিঘা জমিতে কমলা চাষের প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও তিন থেকে চার বছরের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করলে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বাজারে কমলার চাহিদা বেশি থাকায় দামও সন্তোষজনক।

তবে এই চাষ ব্যক্তি উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি বাণিজ্যিকভাবে বিস্তৃত হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মেহেরপুরের দোআঁশ মাটি ও শুষ্ক আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তবে সঠিক জাত নির্বাচন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ফলন সম্ভব।

বর্তমানে জেলার বড় সমস্যা হলো উন্নত ও মানসম্মত কমলার চারা সরবরাহ। কৃষি গবেষণা সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত কমলার জাত এখনো মেহেরপুর অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়নি। ফলে অনেক কৃষক বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে ঝুঁকি নিচ্ছেন, যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাজারজাতকরণও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মেহেরপুরে কমলা সংরক্ষণ, গ্রেডিং কিংবা পাইকারি বিপণনের কোনো অবকাঠামো নেই। ফলে উৎপাদন বাড়লেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মেহেরপুরে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কমলা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে গাংনী উপজেলাতেই প্রায় ৭ শতাংশ বাগান রয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনাহীনভাবে কমলা চাষ সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে রোগবালাই, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার সংকটে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা এবং সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন তাঁরা।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—সময়মতো কৃষি বিভাগ এই উদ্যোগকে পরিকল্পিত ও টেকসই খাতে রূপ দিতে পারবে, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাবে সম্ভাবনাটি হারিয়ে যাবে।