
সাইফ উল্লাহ, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) | সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এখানে রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুল বাগান ও বারেক টিলার মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু পর্যটকদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ধর্মপাশা–মধ্যনগর সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশের করুণ দশায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ধর্মপাশা সেতু থেকে গাছতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সড়কটির এই বেহাল দশার কারণে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নেত্রকোনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ২০১৭ সালে মধ্যনগরের পিঁপড়াকান্দা পর্যন্ত কিছু কাজ করা হলেও তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। বর্তমানে বিশরাকান্দা অংশের সড়কটি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু বলেন, ‘এই সড়কটি এখন আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ইকবাল যোগ করেন, ‘সড়কটি মানুষের হাত-পা ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।’
গাছতলা বাজার বণিক সমিতির সদস্য পাঠান সাদেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নেত্রকোনা সওজের অধীনে থাকতে চাই না। সড়কটি দ্রুত সুনামগঞ্জ সওজের অধীনে ফিরিয়ে এনে কার্যকর মেরামতের দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, ‘সড়কটি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কথা জানি। আপাতত ইটের সুড়কি ফেলে বড় গর্তগুলো ভরাট করার জন্য নেত্রকোনা সওজ কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আশা করছি, মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।’
জানতে চাইলে নেত্রকোনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ সালেহীন বলেন, ‘রাস্তার গর্তগুলো ভরাট করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। আশা করছি, সড়কটির সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’
