ভারী বৃষ্টিতে চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈশাখের মাঝামাঝিতে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সক্রিয়তার কারণে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত শুক্রবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে রূপ নিতে পারে। এমনকি আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের শুরু থেকেই বৃষ্টি হয়েছে। এদিন বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোনায় ১০১ এবং পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় ৪৫ মিলিমিটার ও চট্টগ্রামে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বলেন, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক বার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে নেত্রকোনার ভোগাই-কংস নদের পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার এবং মগরা নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।