
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট : চিংড়ি চাষের আধুনিকায়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং চিংড়ির রোগ দমনে কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা। বুধবার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আওতাধীন বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রে ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২০২৬) ও গবেষণা প্রকল্প প্রস্তাবনা (২০২৬-২০২৭) প্রণয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আখেরী নাঈমার সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও চিংড়ি চাষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় গবেষণার ৯টি সেশনে চিংড়ি ও মাছের নিরাপদ চাষাবাদ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে চাষের মাছ ও চিংড়িতে বিষাক্ত উপাদান ও সিন্থেটিক পলিমারের বায়োরিমিডিয়েশন, নিরাপদ খাদ্যের জন্য জৈব পদ্ধতি, ফসল তোলার পর চিংড়ির গুণমান সংরক্ষণে কাইটোসান-ভিত্তিক ভোজ্য আবরণের কার্যকারিতা এবং টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রোবায়োটিক-উদ্ভূত জিঙ্ক অক্সাইড ন্যানোপার্টিকেলের ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো উপস্থাপিত হয়।
এছাড়া শেলফিশে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উপকূলীয় চিংড়ি চাষে অ্যান্টেনা ড্যামেজ সিন্ড্রোমের মতো উদীয়মান রোগের কারণ ও প্রতিকার, বাগদা চিংড়ি নার্সারিতে লার্ভা মৃত্যুহার রোধে কৌশল, ফারমেন্টেড উদ্ভিদ প্রোটিন-ভিত্তিক খাদ্যের উন্নয়ন এবং মৎস্যচাষে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রভাব ও প্রশমন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চিংড়ি হ্যাচারির জন্য অণুশৈবাল ভিত্তিক জীবন্ত খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
কর্মশালায় স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয় এবং তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামত গ্রহণ করা হয়।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মুস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সারোয়ার এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের প্রধান ড. মো. লোকমান আলী।
কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং স্থানীয় মৎস্য চাষিরা অংশগ্রহণ করেন।
