
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘পাঁচ কেজি চালের দাম দিলাম, পেলাম সাড়ে চার কেজি। গরিবের পেটে এক মুঠো ভাতও কেউ সহজে খেতে দিল না।’ কথাগুলো বলছিলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও টিসিবির সুবিধাভোগী নজিম উদ্দীন। তাঁর মতো উপজেলার প্রায় ১ হাজারের বেশি সুবিধাভোগী ভর্তুকিমূল্যের পণ্য নিতে গিয়ে ওজন কারচুপির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের চর বামনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ৬১০ টাকার প্যাকেজে ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি এবং ৫ কেজি চাল থাকার কথা ছিল। তবে বিতরণের সময় চালের ওজনে গরমিল ধরা পড়ে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ বিতরণকারী ডিলার কাইছ বলেন, ‘আমরা খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা বুঝে নিই। সেখানে প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি থাকার কথা থাকলেও কম পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সেখান থেকে যেভাবে মাল পাচ্ছি, সেভাবেই বিতরণ করছি।’
তবে ডিলারের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বর্ধন।
তিনি বলেন, ‘গুদাম থেকে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বস্তা যেভাবে আসে, সেভাবেই দেওয়া হয়। ওজনে কম হলে তা সমন্বয় করা হয়।’
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা গুদাম কর্মকর্তার মুখোমুখি হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ ও তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সৌজন্য না দেখিয়ে উল্টো গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এখানে কেন এসেছেন?’ এ নিয়ে সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। অসীম চন্দ্র বর্ধন বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে দায় এড়ান।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা আক্তার বলেন, ‘খাদ্য গুদাম থেকে চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই। বাইরে কী হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।’
অন্যদিকে, বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, ডিলার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পরিষদের নয়, এটি শুধু স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ওজন কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি প্রচণ্ড রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে আসা অতিদরিদ্র মানুষগুলো এমন প্রতারণায় ক্ষুব্ধ। তারা অবিলম্বে টিসিবির প্রতিটি পয়েন্টে ডিজিটাল স্কেলে ওজন মেপে পণ্য বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
