প্রবেশের অপক্ষায় নাফনদে ভাসছে মিয়ানমারের বিজিপি বহনকারী নৌকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে তীব্রতা বাড়ছে। এতে প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) এপারে কাঠের ট্রলারে অর্ধশতাধিক বিজিপি নাফনদে দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

রবিবার বিকেলে পৌরসভাস্থল জালিয়াপড়ার টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজটি ঘাটে  নাফনদে দুটি কাঠের ট্রলারে করে অর্ধশতাধিকের বেশি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) এপারে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাঁধা প্রদান করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টহল দল। 

এসময় বিজিপি নাফনদে ভাসতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বিজিবির পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমারের যুদ্ধ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নাফনদে দুটি কাঠের ট্রলারে করে অর্ধশতাধিকের বেশি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) অনুপ্রবেশকালে বাঁধা প্রদান করা হয়। তাদের ফেরত পাঠানো হবে আমরা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফনদে টহল জোরদার করেছি।’ 

এ বিষয়ে  টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান, বলেন, ‘ বিকেলে নাফনদের জেটিঘাটে দুটি কাঠের ট্রলারে করে বেশকিছু মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ঢুকার চেষ্টা করে।  তবে তাদের কোস্ট গার্ড বাধা দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তে ওপাড়ের বিকট গোলার শব্দে এপাড়েরর সীমান্তবর্তী  মানুষের মাঝে আতঙ্ক বেড়েছে। পাশাপাশি নাফনদের ওপাড়ে কয়েকটি স্পর্টে আগুনে কুণ্ডলী দেখা গেছে। এছাড়া সীমান্তে যাতে অনুপ্রবেশ না ঘটে সেজন্য টহল জোরদার করেছে বিজিবি।’

টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজটি ঘাটে ঘুরতে আসা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘বিকেলে জেটি থেকে মিয়ানমারের আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে। এছাড়া নাফনদের জেটিঘাটের পাশে দুটি কাঠের ট্রলারে বেশ কিছু বিজিপি প্রবেশের চেষ্টা করলে, তাদের কোস্ট গার্ড বাঁধা দেয়।’ 

সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, ‘ফের সীমান্ত মিয়ানমারের থেকে বিকট গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। ওপারে যুদ্ধের কারনে টিকতে না পেরে দেশটির বিজিপির সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার খবর পাচ্ছি।  এছাড়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারাও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জেনেছি।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তে বাসিন্দারা আজকেও ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। নাফনদের ওপাড়ে আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে। তাছাড়া এপারে সেদেশের কিছু বিজিপির সদস্য প্রবেশের চেষ্টা করছে। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছেন।’