
মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) | লক্ষ্মীপুর :
মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সবুজ ফসলের মাঠ, নদীর বুকে মাঝির উদাসীন সুর আর বিকেলের মায়াবী আলো—প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য যে কারও নজর কাড়ে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের চাদরের আড়ালেই লুকিয়ে আছে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কষ্টের গল্প।
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু এই যুদ্ধের সঙ্গী হয় কেবল প্রতিকূলতা। যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট—সব মিলিয়ে এক মানবেতর জীবনযাপন।
চরবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নৌপথ ছাড়া তাঁদের কোনো গতি নেই। শুকনো মৌসুমে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা সড়ক নেই। ফলে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটাই তাঁদের একমাত্র ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জরুরি কোনো রোগী হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। এতে পথেই অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
বারবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, ভোটের আগে অনেক বড় বড় পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও নির্বাচনের পর সেসব শুধু ফাইলবন্দি হয়েই থাকে। স্থায়ী বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতিবছর বর্ষায় নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে অনেকের। ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হওয়ার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
চরবাসীর দাবি, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই সড়ক নির্মাণ, মজবুত বেড়িবাঁধ, আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও তার সুফল কবে চরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মেঘনার তীরের মানুষের মনে।
রায়পুরের চরগুলো প্রকৃতির দান হলেও, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলো এখন টেকসই উন্নয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। তারা শুধু আশ্বাস চায় না, চায় জীবনের নিরাপত্তা আর উন্নয়নের ছোঁয়া।
