
নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হোসাফ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডের দুই প্রকৌশলীসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের মিরওয়ারিশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ চলাকালে সড়কের মাঝখানে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর বেগমগঞ্জ মডেল থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্ল্যান্টে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে না। এছাড়া শ্রম আইন অনুসরণ না করে বিনা নোটিশে কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়া এক শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে তাঁরা জানতে পারেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই দুই প্রকৌশলীসহ ছয়জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিফট ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল ইসলাম রিজভী বলেন, “সকালে প্ল্যান্টে এসে গেটে ঢোকার সময় দারোয়ান আমার হাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি তুলে দেন। অথচ এর আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা নিয়মিত করা এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল না করলে প্ল্যান্ট শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্ল্যান্ট ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, “ঢাকা অফিস থেকে ছয়জন স্টাফের অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু তাদের কাছে চিঠিগুলো পৌঁছে দিয়েছি। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই। বিক্ষোভের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্টসংক্রান্ত অসন্তোষ থেকে কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
