
মো: তৌফিকুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক :
রায়পুরা পৌর শহর গড়ে উঠেছে কাকন নদীর তীরে।একসময় কাকন নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য করত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।জেলেরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো।চাষিরা নদীর পানি শুকিয়ে গেলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পাড়ের জমিতে চাষাবাদ করতো।নদীকে ঘিরেই নদীর পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ছিলো।
মেঘনার প্রধান শাখা থেকে এই নদীর উৎপত্তি। একসময়ের এক স্রোতস্বিনী কাকন নদী দখলে দূষণে মরতে বসেছে।ক্রমাগতভাবে নদীর পাড়ের মানুষ ও রায়পুরা বাজারের ব্যবসায়ীরা নদীর মধ্যে বিভিন্ন আবর্জনা ও দূষিত পদার্থ ফেলে নদীর পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে।বিভিন্ন স্থানে নদী দখল করে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে।

রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের নদী পাড়ের বাসিন্দা শাহ আলম মিয়া ও স্বপন মিয়া বলেন, আমরা শৈশবে দেখেছি নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা অনেক ছিলো।এ নদীতে সবসময় পানি থাকতো। দূরের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নৌযান দিয়ে শ্রীরামপুর বড়বাজারে মালামাল আনা-নেওয়া করতো।কিন্তু বর্তমানে শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া রেলওয়ে ব্রিজের কাকন নদীর অংশটুকু পৌরসভার ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ ফেলার কারণে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।আমরা শৈশবে দেখেছি প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শত শত নারী পুরুষ এই রেলওয়ে ব্রিজের নিচের নদী অংশে গোসল করতো এবং পানি নিতে আসতো।বর্তমানে পৌরসভার ময়লা ও আবর্জনার স্তুপের গন্ধের কারণে শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া, উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার লোকজনের এলাকায় বসবাস করা দূরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।উক্ত ব্রিজের পাশেই এলাকার অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শ্রীরামপুর রেলগেইট মিয়াবাড়ি বাইতুন নূর জামে মসজিদ অবস্থিত। ময়লা আবর্জনার দুর গন্ধের কারণে মসজিদের মানুষের নামাজ আদায় থেকে শুরু করে মসজিদে বসে ইবাদতে মসগুল থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।পাশাপাশি রায়পুরা বাজারে ব্রীজের নিচে ফেলা ময়লা আবর্জনার কারণে ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করা দূরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। রায়পুরা পৌরসভার মেয়র জামাল মোল্লা জানান,ময়লা ফেলার জন্য বারবার জায়গা নির্ধারণ করলেও ওই এলাকার লোকজনের বাধার কারণে নির্ধারিত স্থানে ময়লা নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না।তবে নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে যেনো নদী পাড়ের পরিবেশ নষ্ট না হয় সেজন্য পৌরসভা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলার পূর্বে পৌরসভার নির্দিষ্ট ভাগাড় তৈরি করে আবর্জনা ফেলবে বলে পৌরসভা প্রশাসনের মাধ্যমে পৌরবাসীকে এক পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়।
