টেকনাফ সীমান্তে ফের ভারী গোলার বিকট শব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

টেকনাফ (কক্সবাজার)  প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছে কক্সবাজারে টেকনাফ সীমান্তে।

রবিবার রাত ১০টা থেকে থেমে থেমে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের নাফনদী সীমান্তে  মিয়ানমারের ওপার থেকে মর্টারশেলের শব্দে আতঙ্কে সীমান্ত এলাকার লোকজন। এর আগে সর্বশেষ ১৮ মার্চ এসব সীমান্তে মর্টারশেলের শব্দ শুনেছিল সীমান্তের লোকজন। 

সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে স্বীকার করেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর কবির বলেন, ‘এখন রাত ১ টা, এরপরও গোলা শব্দ শুনা যাচ্ছে সীমান্তে। এমনকি আমার বাড়িতে পর্যন্ত ভারী গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।  রাত ১০ টাকা এভাবে থেমে থেমে মিয়ানমারের গোলার ভারী বিকট শব্দ এপারে ভেসে আসছে।’ 

সীমান্তে লোকজন জানায়, কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর  রবিবার রাতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মিয়ানমার সরকারী বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মিদের সঙ্গে চলছে সংঘর্ষ। এতে হোয়াইক্যং সীমান্তের খারাংখালী,নয়া বাজার,মিনা বাজার,কানজর পাড়া, জিম্মখালী, উনচিপ্রাং,লম্বাবিল সীমান্তের মিয়ানমারের ভারী গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ 

হোয়াইক্যং সীমান্তের বসবাসকারী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর রাত থেকে নাফনদের ওপারে ভারী গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। মনে হচ্ছে মাটি খুড়ে কেউ নিয়ে যাচ্ছে।’ 

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন,’ সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিনের তুলনার আজকের গোলার শব্দ বিকট।’ 

এদিকে, মিয়ানমার মংডুও শহরের পাদংসা, কাদির বিল, হাইন্দা পাড়া গ্রামে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে।, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফনদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফনদী ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে।সেটি চলমান এবং যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সব সময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

এর আগে বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন,  ‘সীমান্ত অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন’।