শহীদ তালিকায় শামসুল আলম মামুন এর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর জেলায় কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছেলে সাইফ মোহাম্মদ আলীকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন বাবা শামসুল আলম মামুন (৫২)।

গত সোমবার (২৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরে ঘটে হৃদয় বিদারক এই ঘটনাটি।

তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের পুলিশ বাহিনী কর্তৃক সাইফকে গ্রেফতারকালে মারা যান শামসুল আলম মামুন।

তবে জীবিত থাকাবস্থায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছেলেকে গ্রেফতার হতে দেননি। প্রতিবাদ জানিয়েছেন, প্রাণপণ চেষ্টাও চালিয়েছেন ২৪ এর একজন যোদ্ধাকে বাঁচাতে। এবার কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সেই সাইফের বাবাকে শহীদি মর্যাদা দিতে সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

তারা বলছেন, মরহুম শামসুল আলম মামুন ও তাঁর ছেলে সাইফ মোহাম্মদ আলী কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সমর্থন ছিল বাবা ও ছেলের। তাইতো আন্দোলনে অংশ নিতে কখনো নিষেধ করেনি সাইফকে। বরং উৎসাহ ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন বাবা শামসুল আলম। আন্দোলনের প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন সাইফ।
অরাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠা কলেজ পড়ুয়া সাইফের কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহন ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাইতো তারা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাইফকে গ্রেফতারে তাদের বাসায় পুলিশ পাঠিয়েছেন।

সাইফকে গ্রেফতারকালে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় শামসুল আলমের। এসময় পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে সাইফকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তখনি ছেলেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ওই অবস্থায়ও তৎকালীন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সাইফকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও বলেন, সাইফকে কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহনে উৎসাহ প্রদান ও আন্দোলন এগিয়ে নিতে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন শামসুল আলম মামুন। গ্রেফতার থেকে ২৪ এর এই যোদ্ধাকে বাঁচাতেও তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। শামসুল আলম মামুন এসব করেছেন, মূলত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আদরের সন্তানকে ভালোবেসে। তবে সাইফের চেয়ে তিনি কোটা সংস্কারকে গুরুত্ব বেশি দিয়েছেন। এজন্য বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, মরহুম শামসুল আলম মামুনকে জুলাই বিপ্লবের শহীদি তালিকায় অন্তুভূক্ত করার জন্য। কারন সাইফের বাবা এই আন্দোলনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তিনি একজন যোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাইফ মোহাম্মদ আলী (২০) নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এসময় সন্তানকে থানায় না নিতে পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বাবা শামসুল আলম মামুন (৫২)। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে মারা যান তিনি। সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মজুপুর এলাকায় এমনই ঘটনা ঘটেছে।
পরে অবশ্য সাইফকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তবে বাবার জানাজায় অংশ নিতে তাকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি দেন আদালত।

শামসুল আলম লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মজুপুর এলাকার কালু হাজি সড়কের বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। গ্রেফতার সাইফ চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

পুলিশের দাবি, সাইফ সম্প্রতি কোটা আন্দোলন ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করছিলেন। কোটা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় থাকার প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে।