
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ‘পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঞ্চয় ও আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অফিসে ধরনা দিয়েও টাকা না পেয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের দ্বিতীয় তলায় সংস্থাটির কার্যালয় অবস্থিত। প্রায় ১ হাজার ৮৫৭ জন সদস্য ও ৬১ জন আমানতকারীর এই প্রতিষ্ঠানে আমানতের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসার খরচ, ব্যবসার পুঁজি কিংবা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে জমানো টাকা তুলতে গেলে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। মাসের পর মাস তাদের ‘আজ আসেন, কাল আসেন’ বলে ঘোরালেও এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক বলেন, “অফিসে গেলেই কর্মকর্তারা দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। কষ্টের জমানো টাকা এখন হাতে না পাওয়ায় আমাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “মেয়ের পড়াশোনা ও সংসারের খরচের জন্য টাকা জরুরি। কিন্তু সঠিক কোনো উত্তর পাচ্ছি না।”
টাকা ফেরতের বিষয়ে সংস্থার ম্যানেজার জুয়েল খন্দকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে অফিসে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহকদের আমানত ও সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কর্তৃপক্ষ টাকা সরবরাহ না করলে আমাদের পক্ষে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি এমন থাকলে এখানে চাকরি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আমানতকারী মনে করছেন, তাদের সঞ্চিত অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরে পেতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এনজিওটির আর্থিক স্বচ্ছতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের আমানত হারিয়ে পথে না বসেন।
