চরের গবাদিপশুতে খাদ্য সংকট, সমাধানে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নাজমুল হোসেন: মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে ঘাসের অভাবে গবাদিপশু খাদ্য সংকটে পড়ছে।

 

বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার মেঘনা নদীর চর এলাকায় মহিষ ও গরু বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত ঘাস ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেগুলো ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ চরভূমিতে শত শত মহিষ, গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন করা হলেও অধিকাংশ স্থানে নেই পর্যাপ্ত ঘাস। ফলে পশুগুলোকে দূর-দূরান্তে নিয়ে গিয়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অনেক সময় ঘাসের অভাবে পশুগুলো অপুষ্টিতে ভুগছে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন পশুপালক জানান, চরাঞ্চলে মহিষ ও গরু পালনের উপযুক্ত পরিবেশ থাকলেও ঘাসের সংকট এবং নিয়মিত পশু চিকিৎসা না থাকায় তারা সমস্যায় পড়ছেন। সরকারি উদ্যোগে যদি চরাঞ্চলে ঘাস চাষ, পশু চিকিৎসা ও টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলে গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

 

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাণিসম্পদ খাতে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

 

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ফিড উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশুরোগ প্রতিষেধক ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পশু চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এ ছাড়া দেশের পোল্ট্রি, মাংস ও ডেইরি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। নারী উদ্যোক্তা, তরুণ উদ্যোক্তা, প্রবাসী উদ্যোক্তাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য ঋণ সহায়তা এবং সরকারিভাবে পশু চিকিৎসা সেবা আরও জোরদার করা হবে।

 

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে ফিড উৎপাদন ও ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

এ ছাড়া মৎস্য চাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বিমা সুবিধা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় শস্যের পাশাপাশি গবাদিপশু, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতে বিমা ব্যবস্থাও চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে গবাদিপশু পালন আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।