
নাজমুল হোসেন: মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে ঘাসের অভাবে গবাদিপশু খাদ্য সংকটে পড়ছে।
বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার মেঘনা নদীর চর এলাকায় মহিষ ও গরু বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত ঘাস ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেগুলো ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ চরভূমিতে শত শত মহিষ, গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন করা হলেও অধিকাংশ স্থানে নেই পর্যাপ্ত ঘাস। ফলে পশুগুলোকে দূর-দূরান্তে নিয়ে গিয়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অনেক সময় ঘাসের অভাবে পশুগুলো অপুষ্টিতে ভুগছে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন পশুপালক জানান, চরাঞ্চলে মহিষ ও গরু পালনের উপযুক্ত পরিবেশ থাকলেও ঘাসের সংকট এবং নিয়মিত পশু চিকিৎসা না থাকায় তারা সমস্যায় পড়ছেন। সরকারি উদ্যোগে যদি চরাঞ্চলে ঘাস চাষ, পশু চিকিৎসা ও টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলে গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাণিসম্পদ খাতে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ফিড উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশুরোগ প্রতিষেধক ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পশু চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া দেশের পোল্ট্রি, মাংস ও ডেইরি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। নারী উদ্যোক্তা, তরুণ উদ্যোক্তা, প্রবাসী উদ্যোক্তাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য ঋণ সহায়তা এবং সরকারিভাবে পশু চিকিৎসা সেবা আরও জোরদার করা হবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে ফিড উৎপাদন ও ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া মৎস্য চাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বিমা সুবিধা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় শস্যের পাশাপাশি গবাদিপশু, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতে বিমা ব্যবস্থাও চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে গবাদিপশু পালন আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com