
সাকিব হোসেইন | তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামে অবস্থিত মেসার্স মুজিবুর রহমান এম.এম.আর ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ও বাৎসরিক ভাড়া পরিশোধ না করে অবৈধভাবে পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মুখে রয়েছেন ইটভাটার ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সফিউল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম সাহিদুল হকের ছেলে। তিনি দশ বছরের চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া নেন। প্রথম কয়েক বছর নিয়মিত ভাড়া ও সরকারি বিল পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে বাৎসরিক ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন বলে মালিক পক্ষের অভিযোগ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ফি—প্রায় নয় বছরের বকেয়া রেখেই ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি।
গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভাটায় গিয়ে কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেন এবং বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মালিক পক্ষের দাবি, ভাড়া ও বকেয়া পরিশোধ নিয়ে এর আগে একাধিকবার সালিস ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদিত হয়। এতে সফিউল হোসেন ৯০ দিনের মধ্যে ১৭ লাখ টাকা ভাড়া এবং ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বকেয়া সরকারি রাজস্ব পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ না করে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া ইটভাটাটি পরিচালনা না করার নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করেছে। বকেয়া পাওনা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাওনাদার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটার ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘চেকের মাধ্যমে আমি ১৭ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করেছি। একটি স্থানীয় চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে এখান থেকে সরিয়ে আমার ব্যবসা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে।’
