
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বক্তারা বলেছেন, ক্ষমতা নয়, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নই রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে, তারা ক্ষমা করবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফারইস্ট মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও ইউনাইটেড পিপলস (আপ বাংলাদেশ)–এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন–এর নেতারাও অংশ নেন।
আলোচনা সভার প্রধান বক্তা ছিলেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, “শহীদ আনাসসহ হাজারো মানুষ শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জীবন দেয়নি। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতা কাঠামো রক্ষার ভয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকে আন্দোলন হিসেবে সীমাবদ্ধ রেখেছে। অথচ শহীদদের আত্মত্যাগ ছিল জনগণের ক্ষমতায়নের আন্দোলন।”
তিনি আরও বলেন, “যেনতেন নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত সরকারই বৈধতা পেতে পারে। নির্বাচন শেষে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে — এমন ধারণা ভুল।”
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “জুলাইয়ের সব শক্তিকে ভুল সংশোধন করে আবার রাজপথে নামতে হবে। আবু সাঈদ যেজন্য জীবন দিয়েছে, সেই আদর্শ ধরে রাখতে হবে।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “ক্ষমতা আর জনতাকে আলাদা করার সুযোগ নেই। এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি হবে ঐতিহাসিক নির্বাচন। এবার টাকার খেলা নয়, জনগণকে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় নামতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অভ্যুত্থানের অনেক নেতা বিলাসিতা বেছে নিয়েছেন। অথচ বিপ্লব আর বিলাস একসঙ্গে যেতে পারে না।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল বলেন, “জনতামুখী জোট গঠন করা গেলে এই আয়োজন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলি আহসান জুনায়েদ বলেন, “ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড় অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের আসল লক্ষ্য।”
এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, “অভ্যুত্থানপন্থী সব শক্তিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”
আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব আরেফিন হিজবুল্লাহ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামো ভাঙা। এখনো সেই কাঠামো বহাল আছে, তাই লড়াই শেষ হয়নি।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আপ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদার ভূঁইয়া, এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি।
সভায় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোকে ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু জনগণ–নির্ভর ঐক্যই ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের চাবিকাঠি।
