
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত ৯ জুন/২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-এর সংসদীয় মনোসয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক যশোর জেলাধীন বেনাপোল পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনে মোঃ নাসির উদ্দিন কে “নৌকা” প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার অনুমতি প্রদান করা হয়। দলীয় প্রতীক পেয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার,যশোর ও রিটার্নিং অফিসার,বেনাপোল পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন-২০২৩ বরাবর তিনি তার মনোয়ন পত্র জমা দিলে যাচাই-বাছায় শেষে গত ২৬ জুন/২০২৩ ইং তারিখ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার সরকারীভাবে ঘোষণা প্রদান করা হয়।
ক্ষমতাসীন পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক- মোঃ নাসির উদ্দীন(১৭/১১/২০১২ ইং হতে চলমান)। তার সংক্ষিপ্ত জীবণ বিবরনীতে জানা যায়,তার পিতার নাম- মৃত শামছুর রহমান, তিনি বেনাপোল পৌরসভাধীন বড় আঁচড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য। চাচা ফজলুর রহমান সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ। ২০০৪ সালে বিএনপি সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। উদীয়মান এই রাজনীতিবীদ একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী,বর্তমানে তিনি বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-১ পদে দায়িত্ব পালণ করছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা:- বিএসসি অনার্স, এমএসসি ( ফিজিক্স)। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। সেখানে অধ্যায়ণরত অবস্থায় তিনি মওলানা ভাসানী হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এর আগে ১৯৯০-১৯৯১ তে যশোর এমএম কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু’র আদর্শে গড়া, সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ৮৫,যশোর-১শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের স্নেহধণ্য এবং একান্ত আস্থাভাজন ব্যাক্তি মোঃ নাসির উদ্দিন।
বেনাপোল পৌরসভা কার্যনির্বাহী পরিষদ পরিচিতিঃ মেয়র-১,সাধারণ কাউন্সিলর-৯(৯টি ওয়ার্ড) এবং সংরক্ষিত নারী আসন-৩(৯টি ওয়ার্ড ঘিরে)।
মেয়র পদে “নৌকা” প্রতীক ছাড়াও আরও দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন-মোঃ ফারুক হোসেন উজ্জল(জগ মার্কা) ও মফিজুর রহমান সজন(মোবাইল ফোন মার্কা)।
বিঃদ্রঃ-“জগ” মার্কার প্রার্থী মোঃ ফারুক হোসেন উজ্জল শনিবার ১৫ জুলাই/২০২৩ ইং তারিখ সন্ধ্যায় বন্দর সংলগ্ন ছোট আঁচড়া মোড়ে বেনাপোল পৌর আ.লীগ কার্যালয়ে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে “সংবাদ সন্মেলন” করে নিজের প্রার্থীতা প্রতাহার করে “নৌকা” মার্কার প্রার্থী মোঃ নাসির উদ্দিন কে সমর্থণ প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-শার্শা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু,ঝিকরগাছা উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য-এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম সহ স্থানীয় আ.লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এবং যশোর জেলা শহর থেকে আগত বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার নবীণ-প্রবীণ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে,স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মোট ৪৭জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মোট ১৫ জন।
অত্র পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে ৭০% ভোটারের প্রাথমিক মতামতে জানা গেছে,শতভাগ ভোটাররা নৌকায় ভোট দিতে প্রস্তুত, কারণ হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটাররা বেনাপোলে ব্যাপক উন্নয়নের কখা স্বীকার করে বলেন-২০১১ ইং সালে বেনাপোল পৌরসভায় আ,লীগ ক্ষমতায় আসার পর এখানে একটি দৃষ্টি নন্দন “পৌর গেইট”(প্রবেশ দ্বার) নির্মাণ করা হয়েছে,যা ভারত বর্ষে চ্যালঞ্জ নিয়ে কাজ করবে,বেনাপোল চেকপোষ্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ছবি খোদাইকৃত দৃষ্টি নন্দন “আন্তর্জাতিক প্রবেশ দ্বার” নির্মাণ করা হয়েছে,যাত্রী সুবিধার্থে আন্তঃ এবং আন্তর্জাতিক ২টি পৌর বাস টার্মিনাল এবং যানজট কমানোর লক্ষে একটি আন্তর্জাতিক মাণের পৌর ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে,স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত “মাতৃ ও শিশুসদন হাসপাতাল”রয়েছে, নাগরিকদের বিনোদনের ব্যবস্থা নিতে দৃষ্টি নন্দন পার্ক নির্মাণ ও বেনাপোলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া খাল-বিল গুলি বিনোদন উপযোগী করে গড়ে খনন কাজ চলমাণ রয়েছে,বেনাপোল পৌরসভা সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় দেশী-বিদেশীদের নিকট দৃষ্টি নন্দন করে গড়ে তুলতে সীমান্তের শূণ্য রেখা থেকে শুরু করে বেনাপোল শহর জুড়ে প্রায় দুই কিঃ মিঃ দুরত্ব বেনাপোল-যশোর মহাসড়কটির আইল্যান্ডটিতে “পাতাবাহার ফুলের টব” এবং উন্নত মাণের সাদা-রঙ্গীণ সোডিয়াম বাতি দ্বারা শহরকে শোভাবর্ধণ করা হয়েছে যা দৃশ্যমাণ।
এ ছাড়াও স্কুল,কলেজ,সড়ক সংস্কার ও সড়ক নির্মাণ সহ পৌরসভার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, টিকদান কর্মসূচী, সহ সরকার কর্তৃক প্রদেয় যে কোন ধরনের সুবিধা জনগণকে প্রদান করা হয়।
ইমারত নির্মান কিংবা ভেঙ্গেফেলা সহ পুকুর খননের বিষয়ে পৌরসভা অনুমোদন, স্বাস্থ্যকর ইমারত নির্মান বা ইমারতকে স্বাস্থ্যকরভাবে গড়ে তোলার জন্য পৌরসভার ব্যবস্থা গ্রহণ, আবর্জনা অপসারন করে চূড়ান্ত গ্রাউন্ডে ফেলে দেওয়া, পৌর এলাকায় মহিলা ও পুরুষদের পৃথক পৃথক সুযোগ সমৃদ্ধ “পাবলিক টয়লেট” নির্মান এবং বেরসকারী উদ্যোগে পরিচালনের ব্যবস্থা গ্রহণ, জম্ম, মৃত্যু এবং বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে পৌরসভা জাতীয় দায়িত্ত্ব পালন, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করা, পানি উৎপাদন ও পরিশোধন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা, শহর এলাকায় পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ পরিকল্পনার অংশ হিসাবে প্রতিবছর ড্রেন নির্মান করা হচ্ছে,পৌর এলাকার হাট বাজরের উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারন মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হচ্ছেন, পৌর এলাকার “পেঁচের বাঁওড়” খালে কসাইখানার উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে পশু জবাই করা হচ্ছে, সরকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, মৃত ব্যক্তির দাফন বা দাহের জন্য গোরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন করা হয়েছে।
এরকম অনেক নানাবিধ কর্মসূচি’র মাধ্যমে “বেনাপোল পৌরসভা” কে একটি আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। আগামীতে “বেনাপোল পৌরসভা”কে একটি “মডেল পৌরসভা” হিসেবে গড়ে তুলতে আ.লীগ সরকারের বিকল্প নাই বলে ভোটাররা জানিয়েছেন, ১৭ জুলাই/২০২৩ ইং তারিখ তারা পূণরায় “নৌকা” মার্কার প্রার্থী মোঃ নাসির উদ্দিন কে ভোট দিয়ে বেনাপোলের নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করণ এবং “বেনাপোল পৌরসভা”কে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে “নৌকা” মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১২ বছর পর আগামী ১৭ জুলাই/২০২৩ ইং তারিখ বেনাপোল পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এলাকার মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। এ পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৪৪ ও নারী ভোটার ১৫ হাজার ৩৪১ জন।
২০০৬ সালে বেনাপোল ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় বেনাপোল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড। সে সময় বিএনপি-জামায়াত শাসনামল থাকায় স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে পৌর প্রশাসক ও কাউন্সিলর নিয়োগ হয়। প্রায় ৫ বছর পর ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আশরাফুল আলম লিটন মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারিতে ওই পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সেখানে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সীমানা সংক্রান্ত মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে যায়।
২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪২ এর সংশোধনক্রমে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন ২০২২ এর ধারা ৯ অনুযায়ী পৌর পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে শার্শা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নারায়ণ চন্দ্র পাল প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালণ করে চলেছেন।
