কর্জশোধ, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী : xনাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ। প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ কর্জশোধ, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি নিয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই—“ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ”।

পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আলে ইমরানের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াতসমূহ ফজর ও মাগরিবের নামাজ শেষে সাতবার পাঠ করিলে ইনশাআল্লাহ কর্জ শোধ ও শত্রু পরাভূত হইবে। প্রত্যহ এশার নামাজের পর শয়নকালে এই আয়াত বহুবার পাঠ করিলে আল্লাহ তায়ালা উপার্জন বৃদ্ধি, সৌভাগ্যশালী এবং দরিদ্রতা বিনষ্ট করেন।

সহিহ কিতাবে এই সুরা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মাদ (স.) সম্পদশালী ছিলেন না বলিয়া ইহুদি ও নাছারাগণ তাঁহার নবুয়তের দাবি অগ্রাহ্য করিত ও বিদ্রুপ করিয়া বলিত যে, হযরত মুহাম্মাদ (স.) কখনও নবী নহেন। যদি তাহাই হইত, তবে হযরত দাউদ (আ.) ও হযরত ছোলায়মান (আ.)-এর মত তিনিও ঐশ্বর্যশালী হইতেন, তাঁহারাও তো নবী ছিলেন, কিন্তু কেহই গরিব ছিলেন না এবং পরাক্রান্ত নরপতি হিসাবে মশহুর ছিলেন। বিধর্মীগণের এই উক্তির পরেই এই আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়। ইহার অব্যবহিত পর হইতেই মুসলমানদের বৈষয়িক উন্নতি, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য হস্তগত হইয়া দিগ্বিজয়ের সূচনা হয়।

এই আয়াতের মূল হইতেছে ধনসম্পদ, বিত্ত-বিভব একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়ই লাভ করা যাইতে পারে। মানুষের দৃষ্টির পরিধি অতি ক্ষুদ্র, ইহা দ্বারা আল্লাহর ক্ষমতা ও কুদরতকে সম্যক প্রত্যক্ষ করা চলে না। এই আয়াত পাঠের দ্বারা আল্লাহর অসীম কুদরত ও শক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করা হয়; যে ব্যক্তি এইভাবে নিজেকে নিঃশেষে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে, তাহার প্রতি আল্লাহর অপার করুণা বর্ষিত হইবেই হইবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, একদা হজরত মুআয (র.) ঋণগ্রস্ত হইয়া পড়েন এবং কোনক্রমেই তাহা পরিশোধ করিতে পারেন না। অতঃপর অনন্যোপায় হইয়া হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর শরণাপন্ন হইলেন। হযরত মুহাম্মাদ (স.) তাঁহাকে এই আয়াত পাঠ করিতে হুকুম দেন এবং আয়াতের ফজিলতে অচিরেই মুআয (র.) ঋণমুক্ত হইলেন।

বাংলা উচ্চারণ

কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতিল মুলকা মান তাশাউ ওয়া তানজিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ ওয়া তুইজ্জু মান তাশাউ ওয়া তুজিল্লু মান তাশাউ বিয়াদিকাল খাইর। ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। তুলিজুল্লাইলা ফিন্নাহারি ওয়াতুলিজুন্নাহারা ফিল্লাইলি ওয়া তুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি ওয়া তুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি, ওয়া তারজুকু মান তাশাউ বিগাইরি হিছাব।

অর্থ

১. (হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বল, হে আল্লাহ! তুমি সমগ্র রাজ্যের প্রভু। তুমি যাহাকে চাও রাজ্য দান কর, আর যাহার হাত হইতে চাও রাজত্ব ছিনাইয়া নাও ও যাহাকে চাও মর্যাদা প্রদান কর এবং যাহাকে চাও হতমান কর, তোমার হস্তেই সকল কল্যাণ। আর নিঃসন্দেহে তুমি সর্ববিষয়োপরি সর্বশক্তিমান। ২. তুমি রজনীকে দিবসে পরিণত কর ও দিবসকে রজনীতে পরিণত কর। মৃত (নিষ্প্রাণ) হইতে জীবিতকে বহির্গত কর এবং জীবিত হইতে মৃতকে বহির্গত কর (জীবিতকে মৃত্যু দান কর)। আর যাহাকে চাও সংখ্যাহীন রিজিক দিয়া থাক।

ইয়া আল্লাহ, আমাদের সবাইকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।