ইলম ও যুহদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী (রহ.)

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

মাওলানা মুহাম্মদ সিদ্দীকুর রহমান চৌধুরী : প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ ও উলামা সমাজের অভিভাবক আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী (রহ.)-এর ইন্তেকাল ব্রিটেনবাসী আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ৯১ বছর বয়সী এই প্রবীণ আলেমে দ্বীন ইলম ও আমলের চর্চায় ছিলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কেবল একজন আলেমই ছিলেন না, বরং ছিলেন ব্রিটেনের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের জন্য এক আলোর দিশারী।

সিলেটের বিয়ানীবাজারের দুবাগ গ্রামে ১৯২৯ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি কর্মজীবনের এক দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরে। লেস্টারের দারুস সালাম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও খতীব হিসেবে তিনি সেখানে দ্বীনি শিক্ষার যে ভিত্তি গড়েছিলেন, তা আজ ব্রিটেনের উলামা মহলে সমাদৃত। শায়খুল ইসলাম হযরত আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর খলীফা হিসেবে তিনি তাঁর শায়খের আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করতেন।

নিজের মাসলাক বা আদর্শের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ‘লেস্টারের ছাহেব’, আর বৃহত্তর উলামা মহলে তিনি সুপরিচিত ছিলেন ‘আল্লামা ছাহেব’ হিসেবে। তাঁর পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানের গভীরতা তাঁকে অন্য উচ্চতায় আসীন করেছিল।

কর্মময় জীবন ও পাণ্ডিত্য একজন বিশেষজ্ঞ আলেম হিসেবে তাঁর জীবন ছিল কর্মমুখী। কর্মস্থল হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন, সবখানেই তিনি ছিলেন ইখলাসপূর্ণ নেক আমলের অধিকারী। কেবল মৌখিক নসিহত নয়, বরং নিজের জীবনাচার ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন একাধারে মুহাদ্দিস ও ফকীহ। তাঁর রচিত অসংখ্য কিতাব ও ফতোয়া আজও জ্ঞানপিপাসুদের পথ দেখায়। ‘মানাসুল মুফতী’, ‘আল মাসাইলুন্নাদিরাহ’, ‘ফাতাওয়ায়ে মুজাহিদিয়া’সহ তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি ব্রিটেনসহ বিশ্বের বাংলাভাষী মুসলিমদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

স্মৃতির পাতায় এক সাদা মনের মানুষ ২০০১ সালে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর পর তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয়। আমার শশুর মাওলানা ক্বারী আব্দুল কাদির ছাহেবের উস্তাদ হিসেবে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল অনেক আগে থেকেই। ব্যক্তিগত সান্নিধ্যে এসে তাঁকে পেয়েছি এক সাদা মনের উদার প্রাজ্ঞ আলেমে দ্বীন হিসেবে। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যের ভার সত্ত্বেও নবীন আলেমদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ তাঁর এই জ্ঞানের প্রতি ক্ষুধারই পরিচয় বহন করে।

আল্লামা দুবাগী (রহ.)-এর ইন্তেকালে আমরা একজন অভিভাবককে হারিয়েছি, যিনি ছিলেন সুন্নীয়তের এক শক্তিশালী স্তম্ভ। মানুষের জটিলতা এড়িয়ে অকৃত্রিম সারল্য ও পরহেজগারীর যে নমুনা তিনি রেখে গেছেন, তা এ কালের মানুষের জন্য অনুকরণীয় উপমা হয়ে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সমস্ত খেদমত কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড দা’ওয়াহ কাউন্সিল ইউকে