জুলাই বিপ্লব দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিলো: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বৈষম্যহীন ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্যই ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ ফলপট্টি সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। জনসভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ তাসের ঘরের মতো উড়ে গেছে

আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিং করার পর অনেকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই মাস দেশ ও জাতির জন্য মুক্তির পয়গাম নিয়ে হাজির হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মূলত জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে।”

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিভিন্ন ঘোষণা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে এখন প্রতিনিয়ত ‘এই আসলাম, সেই আসলাম’ বলে আস্ফালন করছেন এবং এভাবে ১৩ বার ব্যর্থ হয়েছেন। যুবসমাজ ফাঁসির রশি হাতে নিয়ে তাঁর দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।”

সরকারের প্রতি ৫ দফা দাবি

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের প্রতি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানান বিরোধী দলীয় নেতা:

দ্রুত বিচার: জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের ক্ষেত্রে টালবাহানা পরিহার করে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাষ্ট্রীয় সম্মান: জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে এবং শহীদদের ‘জাতীয় বীর’র মর্যাদা দিতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের উন্নত সুচিকিৎসা এবং তাদের পরিবার যেন সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

নামকরণ: মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ শহীদদের নামে করতে হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: অবিলম্বে কোনো টালবাহানা না করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

গণভোট ও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

গণভোটের রায় প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। অথচ সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরাও করেছি। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তবে সরকার ও সংসদও অবৈধ হয়ে যায়। ‘গোশত হালাল হলেও ঝোল হারাম’ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

সভাপতির বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “গণরায়কে কোনোভাবেই পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু সরকার নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।” তিনি অবিলম্বে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান ও আব্দুর রহমান মূসা।

এছাড়াও আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি শান্ত তালুকদার এবং শহীদ পরিবারের সদস্য আব্দুল মান্নান ও মোশাররফ হোসেন।