
সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। তবে মুক্তিপণ পরিশোধের পরও এখনো দুই জেলে ফেরেননি বলে জানা গেছে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলেরা। তাদের ফেরায় পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নিখোঁজ দুই জেলেকে ঘিরে এখনো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটেনি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ও ৫ মে দুই দিনে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ এবং ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। পরে তাদের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার ও মহাজনদের মাধ্যমে দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়।
এরপর একে একে ১৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফিরে আসা জেলেদের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মণ্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেন। তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামের দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ পাঠানো হলেও তারা এখনো বাড়ি ফেরেননি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ফিরে আসা জেলেরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা যথাযথ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করায় সমস্যা হচ্ছে।
