
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর (কচুয়া) : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সংবাদ আমলে নিয়ে কচুয়া আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নান ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৯০(১)(গ) অনুযায়ী অভিযোগটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়া বিশ্বরোড এলাকায় ব্র্যাক অফিসের দক্ষিণ পাশে কচুয়া বাজারসংলগ্ন একটি প্রবাহমান সরকারি খাল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল জলিল পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণের ফলে এর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, খালটি তাদের সেচ ও পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। খাল দখলের কারণে আশপাশের কৃষিজমিতে পানি জমে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন কৃষক বলেন, “বর্ষা শুরু হলে আমাদের জমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এখনই পানি নামতে সমস্যা হচ্ছে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা সরাসরি আইন লঙ্ঘন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী খাল ভূমি হিসেবে গণ্য এবং তা দখল বা ভরাট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জলাধার নষ্ট করাও দণ্ডনীয়।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংগ্রহ করতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি দখল হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেন নীরব ছিল। তারা দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
