খালের পাড়ে পড়ে আছে নৌ অ্যাম্বুলেন্স, নেই ইঞ্জিন—সেবা বন্ধ চার বছর ধরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারসংলগ্ন সেন্টার খালের পাড়ে পড়ে আছে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স। বাইরে থেকে সচল মনে হলেও ভেতরে নেই ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। চার বছর আগে চালু হলেও একবারও রোগী পরিবহনে ব্যবহার হয়নি এই অ্যাম্বুলেন্সটি।

২০২২ সালে চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা। কিন্তু চালক নিয়োগ না থাকাসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতায় শুরু থেকেই এটি কার্যকর হয়নি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হলেও উদ্বোধনের পর তা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করেন অনেকে।

চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু বলেন, “চালকসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায়নি। ফলে চরাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

রামগতি উপজেলার চরাঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কখনো চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ট্রলার নিতে হয়।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল চর আবদুল্লাহে পেটের ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু মো. মামুন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবার তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু চার ঘণ্টার চেষ্টাতেও নৌযান পাওয়া যায়নি। পরে ছোট একটি নৌকায় করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।”

শিশুটির বাবা জাকির হোসেন বলেন, “নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। একদিনও রোগী পরিবহনে দেখিনি।”

উপজেলা প্রশাসন জানায়, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কেন অকার্যকর রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেন এটি চালু হয়নি এবং কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা দ্রুত যাচাই করা হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”