
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | সাতক্ষীরা : অতিপুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের কারণে সাতক্ষীরায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাশরুম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। চপ, পেয়াজু, নুডুলস ও স্যুপ—এ ধরনের খাবারের চাহিদা বাড়ায় জেলায় মাশরুম চাষও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।
মাশরুম ছত্রাকজাতীয় একটি পুষ্টিকর খাদ্য, যা দেখতে ব্যাঙের ছাতার মতো। চাষপদ্ধতি তুলনামূলক সহজ, খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, মাশরুমে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা রোগ প্রতিরোধে এটি সহায়ক।
পরিত্যক্ত জায়গা থেকে সফলতার গল্প
তরুণ উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসেন ২০১৮ সালে নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করে শুরু করেন মাশরুম চাষ। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তিনি জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সাভার) থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। শুরুতে ২০টি স্পর্ন নিয়ে ওয়েস্টার্ন জাতের মাশরুম চাষ শুরু করেন।
বর্তমানে তাঁর খামারে লোহার ফ্রেমে সাজানো রয়েছে প্রায় চার হাজার স্পর্ন। প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করে তিনি আয় করছেন গড়ে ৬০ হাজার টাকা।
ফুড কোর্টে ভিড়
দুই মাস আগে সাদ্দাম চালু করেছেন মাশরুমের দুটি ফুড কোর্ট। বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে মাশরুমের স্যুপ, নুডুলস, চপ ও পেয়াজু তৈরি ও বিক্রি হয়। পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন তাঁর দোকানে।
ক্রেতারা জানান, স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাবার হিসেবে মাশরুমের তৈরি এসব পদ তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগের সহায়তা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কাজ করছে। সরকারি প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মাশরুম চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার জানান, মাশরুম চাষে আগ্রহীদের সহায়তা দিতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগ্রহীরা জেলা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবেন।
স্বাস্থ্যসচেতনতা ও উদ্যোক্তা উদ্যোগ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে সাতক্ষীরায় মাশরুমভিত্তিক খাবার এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
