
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে দেওয়ায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাটে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। হত্যার ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার সাত আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আশরাফুলের মা নিগার সুলতানা কান্নার মাধ্যমে বলেন, “বিচার লাগবো না, আমার বাবা লাগবোরে। আমার বুকের হাহাকারটা নিভাইয়া দে, আমাকে একটু মা কইয়া ডাইকলেই অইবোরে। আমি খরাত (ভিক্ষা) কইরা কইরা তোমাদের টাকা দিমুরে বাবার লাইগা। আমার একটা বাবা আছে, ওদের ১০টা আছেরে, আমার আর কেউ নাইরে।”
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব, নিহত আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক, স্থানীয় অন্তরা আক্তার ও কে এম সালেহ আহমেদ প্রমুখ।
আশরাফুলের মামা কে এম সালেহ আহমেদ বলেন, “এরফলে এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই।”
নিহত আশরাফুলের বোন অন্তরা আক্তার বলেন, “ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সব আসামি এখনও ধরা পড়েনি।” আশরাফুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে, পাঁচ বোনের এক ভাই।
রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “মামলার এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে তিনজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত আলামতও জব্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আশরাফুল উপজেলার চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা ও রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আশরাফুলকে উদ্ধার করে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৬ জানুয়ারি দুপুরে তার বাবা আজিজুল হক থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের অভিযান চালিয়ে শাহিন বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০ জানুয়ারি রাজধানীর গ্রিন রোডের নিউ লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশরাফুলের মৃত্যু হয়। ২৩ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে শাকিল ও সোহাগ বেপারীসহ তিনজনকে র্যাব-১১ গ্রেপ্তার করে।
