লক্ষ্মীপুরে জেএসডির সংবাদ সম্মেলন ‘সেনা ক্যাম্প ও অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের বাক্স লুটের আশঙ্কা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের রামগতির দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে গুরুতর শঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বেলায়েত হোসেন বেলাল।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে জেএসডির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার না করলে ভোটের বাক্স নিয়ে যাবে, নির্বাচন আকাশে যাবে। রামগতির দক্ষিণাঞ্চলে ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা যেতে পারবে না। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হবে, গুলি করার হুমকি দেওয়া হবে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব (তারা)-এর নির্বাচনী এলাকা মনিটরিং করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের অস্ত্র দিয়ে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা হয়, আর ডাকাতদের অস্ত্র দিয়ে পুরো চরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভোট দিয়ে এসে মানুষের তো জীবন বাঁচাতে হবে। তাই সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কারচুপির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বেলাল বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নানা পরিকল্পনা রয়েছে—নকল সিল, ব্যালট তৈরি, একজনের হাতে একাধিক ব্যালট তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো ভোটের বাক্স লুট হয়ে নদীপথে নিয়ে যাওয়া।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান বয়ারচরে অস্ত্রধারী ও ডাকাতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ভোট লুটের উদ্দেশ্যে রামগতির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চর এলাকায় জলদস্যু ও স্থলদস্যুদের একত্র করা হচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ডাকাত ফরিদ নামে একজনকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। বেলালের দাবি অনুযায়ী, ফরিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী বা সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জেএসডির সভাপতি মনছুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী আকবর হোসেন ও জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা জেএসডি সভাপতি মিঞা মনির মাস্টার, জেএসডি নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও জাকির হোসেন নান্টু প্রমুখ।