মেঘনা উপকূলে জীবন-জীবিকা: কমলনগরের মৎস্যখাত টিকে আছে নদীনির্ভরতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

নাজমুুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা মেঘনা নদীর উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে নদীকেন্দ্রিক মৎস্যখাতের সঙ্গে। আধুনিক হ্যাচারি না থাকলেও মেঘনার প্রাকৃতিক মাছই এই উপজেলার মৎস্য অর্থনীতির প্রধান ভরসা।

উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চর লরেন্স, চর মার্টিন, চর ফলকন ও পাটওয়ারীরহাট ইউনিয়নের হাজারো জেলে পরিবার প্রতিদিন মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে নামে। ইলিশসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ আহরণই তাদের প্রধান আয়ের উৎস।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। তবে নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে।

চর লরেন্স ইউনিয়নের জেলে রহিম উল্লাহ বলেন, “মেঘনাই আমাদের সব। কিন্তু ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়। সহায়তা সব সময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, “কমলনগর পুরোপুরি নদীনির্ভর উপজেলা। ইলিশসহ প্রাকৃতিক মাছ সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে এবং সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে উপকূলীয় ঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বড় চ্যালেঞ্জ।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ব্যবস্থাপনা জোরদার, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কমলনগরের মৎস্যখাত আরও টেকসই হতে পারে।