
সিরাজুল ইসলাম : বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রতি বছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা ও নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগের কবলে পড়ে দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, নদী ব্যবস্থাপনার অপরিকল্পিত অবস্থা এবং ঘনবসতি বাংলাদেশের দুর্যোগঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গত কয়েক দশকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ২০০৭ সালে সিডর এবং ২০০৯ সালে আইলা এই অঞ্চলে বড় ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা আরও ১.৫–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নদীর স্রোত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, যা উপকূলীয় প্লাবন ও লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি করবে।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হার এভাবে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। শহরে মানুষ একদিকে অভিবাসন করবে, অন্যদিকে নগরায়নের চাপ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ১৩–১৪টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ৪–৫টি দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। নদীভাঙন, খরা ও কালবৈশাখীর মতো দুর্যোগও নিয়মিত আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করা সম্ভব নয়, পরিকল্পিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে।
দূর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারসহ জনগণকে আরও সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
