
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের দুই কেন্দ্রীয় নেতা—শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম—ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিনের শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের জনসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক।
তবে নির্বাচনী মাঠে দু’পক্ষের বক্তব্যে উত্তাপ থাকলেও মাঠের বাইরে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা গেছে। উঠান বৈঠক বা সমাবেশে কখনো একে অন্যের দলকে উদ্দেশ্য করে তির্যক বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও একই টেবিলে তাদের সৌহার্দ্যমূলক চা চক্রকে রাজনৈতিক সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই দৃশ্যকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। মাহফিল শেষে পাশের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে দু’জন একই টেবিলে বসে চা পান করেন। এ সময়কার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা আলোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিওতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যানিকে বলতে শোনা যায়, “রেজাউল করিম আমার প্রিয় ভাই। এটা ফ্যাসিস্টের লড়াই না, বন্ধুত্বের লড়াই, গণতন্ত্রের লড়াই।”
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজাউল করিম বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আমাকে ও ছাত্রদলের এক সহসভাপতিকে এক রশিতে বেঁধে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কুমিল্লায় আমি বললাম আছরের নামাজ পড়ব। তখন আমাকে একটি কলেজে নেওয়া হলো। যখন আমি শিবিরের সভাপতি ছিলাম—সেই কলেজেই নবীনবরণে এসেছিলাম। তখন সবাই আমাকে ফুল দিয়ে বরণ করেছিল। আর সেদিন ডান্ডাবেড়ি নিয়ে যখন ঢুকলাম, সবাই দেখতে ছুটে এল। মনে হলো দৃশ্যটাই পাল্টে গেছে।”
রেজাউলের বক্তব্য শুনে এ্যানি বলেন, “তখন তো অত্যাচারের শেষ ছিল না।”
চা চক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জামায়াতের শহর আমির আবুল ফারাহ নিশানসহ দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এ দুটি দলের মাঠ পর্যায়ের সৌহার্দ্যমূলক আচরণ ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে মন্তব্য করেছেন—“মতভেদ থাকলেও সম্পর্কের সৌন্দর্য এমনই হওয়া উচিত।”
