
আলামীন রংপুর : পূজা শব্দটি মূলত সংস্কৃত থেকে আসা একটি শব্দ। এর অর্থ হলো শ্রদ্ধা, সম্মান, উপাসনা, ভক্তি। এটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায় পালন করে থাকেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো দীপাবলি, হোলিখেলা, রক্ষা বন্ধন, গণেশচতুর্থী, নবরাত্রি, জন্মাষ্টমী এবং দুর্গাপূজা।
হিন্দুরা পূজা করে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য, তাঁর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে। এটি একটি আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক উপাসনা, যার মাধ্যমে ভক্তরা নিজেদের আধ্যাত্মিক বিকাশের পথে অগ্রসর হতে চান।
হিন্দু ধর্মের ১২ মাসে তেরো পূজার প্রচলন থাকলেও দুর্গাপূজা ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে সনাতনী বাঙালির প্রধান উৎসব হওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এবং বাংলাদেশে দুর্গাপূজা জাঁকজমকভাবে পালিত হয়। এমনকি ভারতের আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর ও তিষা রাজ্যেও দুর্গাপূজা সমারোহে পালিত হয়। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রবাসী বাঙালি সনাতনীগণ ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজ নিজ পদ্ধতি অনুযায়ী শারদীয়া দুর্গাপূজা বা নবরাত্রি উৎসব পালন করে থাকেন।
২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হলে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে স্থানীয় বাঙালি সনাতনী অধিবাসীরা ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিরাট দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। সাধারণত আশ্বিন মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। এভাবেই প্রতিবছর দুর্গাপূজা পালিত হয়।
তাদের বারো মাসে তেরো পূজাগুলো হলো—
দুর্গাপূজা : অসুরনাশিনী মহাশক্তি পূজা।
কালীপূজা : অশুভ শক্তির বিনাশ রাত্রিদেবীর পূজা।
সরস্বতী পূজা : বিদ্যা ও কলার দেবীর পূজাকে সরস্বতী পূজা বলা হয়।
লক্ষ্মী পূজা : ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের পূজাকে লক্ষ্মী পূজা বলা হয়।
শিব পূজা : বিশ্বনাথ মহাদেবের আরাধনাকে শিব পূজা বলা হয়।
গণেশ পূজা : সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্ননাশক দেবতার পূজাকে গণেশ পূজা বলা হয়।
মনসা পূজা : সাপ ও রোগব্যাধি থেকে রক্ষার জন্য যে পূজা করা হয়, সেটাই মনসা পূজা নামে অভিহিত।
শীতলা পূজা : বসন্ত ও সংক্রামক রোগ থেকে মুক্তির জন্য শীতলা পূজা করা হয়।
