তদবির নয়, ট্যালেন্টে জয়—লক্ষ্মীপুরে পুলিশের স্বচ্ছ নিয়োগে নজির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ২৪ তরুণ-তরুণী। এই চাকরি পেতে অনলাইন আবেদন খরচ বাবদ জনপ্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা।জেলা পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা। তালিকা প্রকাশের পরপরেই উত্তীর্ণরা ও তাদের স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সূত্র, গত ১৪ ও ১৫ আগস্ট কনস্টেবল পদে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ৯১০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। ২৯ আগস্ট লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ২২১ জন। এর মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হন মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) জন্য। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।  

এমন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিনামূল্যে সন্তানের চাকরি পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেক অভিভাবক ও প্রার্থী।চন্দ্রগঞ্জের গনেশশ্যামপুর এলাকার সাদেক আহমদের ছেলে জাহিদ হাসান বলেন, আমরা হতদরিদ্র পরিবার। অভাব অনটনের মধ্যে চলে আমাদের সংসার। চূড়ান্ত তালিকায় নাম দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি কৃতজ্ঞ। এখন দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।

সদর উপজেলার চররুহিতার আরাফাত হোসেন বলেন, “কোনো ঘুষ ও তদবির ছাড়া চাকরিটা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”

মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে চাকরি পেয়েছেন সদর উপজেলার সুমাইয়া আক্তার। নিজের চাকরি প্রাপ্তির খবরে আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া ও তার স্বজনরা। একই চিত্র চাকরি পাওয়া সবার। 

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকের মধ্যে ধারণা আছে পুলিশে চাকরি মানেই ঘুষ ও তদবিরের জোর লাগে। আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে নতুন করে দেশ গড়তে হবে।”