
মোঃ শফিক তপাদার, চাঁদপুরঃ
শুরু হলো নতুন বছর ২০২৫-এর যাত্রা। নতুন বছরে নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা সবার। অন্যদিকে, কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে থাকা ২০২৪ সাল জন্ম দিয়েছে নানা ঘটনার। এসব ঘটনা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের ইতিহাসে। ২০২৪ সালে চাঁদপুর জেলার আলোচিত ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন।
গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের পশ্চিম পাড় এলাকায় মেঘনা নদীতে থেমে থাকা একটি জাহাজে পাঁচজনের মরদেহ এবং তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। ফলে ওই জাহাজে থাকা মোট সাতজনের মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকা আহত জুয়েলের গলাকাটা থাকায় তিনি কথা বলতে পারেননি। তবে জুয়েল তাদের সঙ্গে ইরফান নামে আরেকজন ছিল বলে লিখে জানায়। হাইমচর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন জাহাজটির মালিক মাহবুব মোর্শেদ। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, জাহাজটিতে ৯ জন স্টাফ ছিলেন। এ ঘটনায় আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফানকে র্যাব বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিহতরা হলেন— নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এগারনলি এলাকার আবেদ মোল্লার ছেলে সালাউদ্দিন (৪০), একই উপজেলার পাংখারচর উত্তর এলাকার মাহবুবুর রহমান মুন্সীর ছেলে আমিনুর মুন্সী (৪১), ফরিদপুরের কোতোয়ালি উপজেলার জুয়াইর এলাকার মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে মো. গোলাম কিবরিয়া (৬৫), একই এলাকার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে শেখ সবুজ (২৭), মাগুড়ার মহম্মদপুর উপজেলার চর বসন্তপুর এলাকার আনিছ মিয়ার ছেলে মো. মাজেদুর (১৮), একই উপজেলার পলাশবাড়িয়ার দাউদ হোসেনের ছেলে মো. সজীবুল ইসলাম (২৯) এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন মুন্সীর ছেলে রানা কাজী (৩২)। তারা সবাই জাহাজের স্টাফ।
‘বালুখেকো’ খ্যাত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান গণপিটুনিতে নিহত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচিতে উত্তাল ছিল চাঁদপুর। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারে পতন পর উল্লাসে রাজপথে নামেন সর্বস্তরের জনতা। এ সময় সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত ‘বালুখেকো’ খ্যাত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে নায়ক শান্ত খান গণপিটুনিতে নিহত হন। এ ছাড়া কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদও গণপিটুনিতে নিহত হন। ফরিদগঞ্জে বিক্ষুব্ধরা থানায় হামলার চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত নামে এক ছাত্রনেতা নিহত হন।
ভয়াবহ বন্যা
গত ২৩ আগস্ট থেকে চাঁদপুরের ছয় উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও উজানের পানি নেমে বন্যা সৃষ্টি হয়। উল্টো বানের পানিতে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ এবং শাহরাস্তি উপজেলার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হন। ভারী বৃষ্টিতে জেলার পৌরসভা এবং ইউনিয়নের মধ্যে ৬৪টি স্থানে জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মৎস্য, কৃষি ও প্রকৌশলী খাতে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। জেলায় ৭ হাজার ২৩টি পরিবার পানিবন্দি এবং ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬২টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৮০১টি পুকুর-দিঘি ও ৫৫টি ঘের মাছ ও পোনা ভেসে যায়। ৩২ হাজার হেক্টর জমির আংশিক এবং ১৮ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমির ধানের চারা নষ্ট হয়ে যায়। এতে সাড়ে ৪৫ হাজার কৃষকের প্রায় ৭৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া কুমিল্লার লাকসামের ডাকাতিয়া নদী থেকে বন্যার পানি ঢুকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ ও সদর উপজেলার জনপদ ডুবে যায়।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার শাখার ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দীর বিরুদ্ধে দুই গ্রাহকের কাছ থেকে দুই কোটি ৫১ লাখ টাকা নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ উঠে। তিনি ৪ এপ্রিল ব্যাংক থেকে নিখোঁজ হন। অধিক মুনাফার কথা বলে কচুয়ার আশ্রাফপুর এলাকার দলিল লেখক মারুফের কাছ থেকে নেওয়া নগদ ৭৫ লাখ টাকা এবং ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার আকবর হোসেন লিটনের কাছ থেকে কয়েক ভাগে নেন নগদ ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
