
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলায় গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। পৌরসভার জেবি রোড, বাঞ্চানগর, সমসেরাবাদ, কলেজ রোড, পিটিআইয়ের মোড়, শেখ রাসেল সড়ক ও মিয়া বাড়ি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছে পৌর শহরের মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় জুড়ো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। এছাড়াও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে জেলা কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি মেঘনার পানি বৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি ও কমলনগর এবং রায়পুর উপজেলার উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি খুব সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নদী ভাঙনসহ উপকূলীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার কালকিনি, সাহেবেরহাট, পাটওয়ারীরহাট, চরফলকন, চরমার্টিন, চরলরেঞ্চ ইউনিয়ন এবং রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চরগাজী, চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নের নিমাঞ্চল এলাকা জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে প্লাবিত হয়। এতে করে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দেয়।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বিভিন্ন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পৌরবাসী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূইয়া বলেন, টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাটগুলো বা যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, সেখানে ড্রেনেজ পরিষ্কার করে পানি নামানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে। যদি বৃষ্টি কমে যায়, তাহলে পানি দ্রুত সময় নেমে যাবে।
এদিকে আরও কয়েকদিন মেঘনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান বলেন, সামনে পূর্ণিমা, তাই নদীতে পানি বাড়ছে। এটি আরও কয়েকদিন থাকবে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টানাবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে সরকার। পাশাপাশি ৩ হাজার ১’শ কোটি টাকার নদীতীর রক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আর কোনো সমস্যায় থাকবে না রামগতি ও কমলনগর অঞ্চলের লোকজনের।
